Header AD

মুর্শিদাবাদে শুনানিকেন্দ্রের লাইনে বরযাত্রীসহ বর! SIR -এর কাজ মিটিয়ে বিয়ে করতে গেলেন যুবক

এসআইআরের (SIR in West Bengal) শুনানিকেন্দ্রে (hearing centre) বর বেশে এক যুবক! তবে তিনি একা নন, সঙ্গে বেশ কয়েকজন বরযাত্রীও রয়েছে। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রঘুনাথগঞ্জ এলাকার। শুক্রবার সকালে তখন শুনানিকেন্দ্রের বাইরে লম্বা লাইন। নথিপত্র হাতে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে দাঁড়িয়ে সকলে। আচমকা সেখানেই বরবেশে হাজির এক যুবক। হঠাৎ এমন পোশাকে শুনানিকেন্দ্রে কাউকে দেখে হকচকিয়ে যায় উপস্থিত জনতা। জানা যায়, শুনানির নোটিশ পেয়ে ওই যুবকও এসেছেন। শুক্রবার তাঁর বিয়ে। আর বিয়ের দিনেই তাঁকে সমন পাঠিয়েছে কমিশন। তাই বিয়ে করতে যাওয়ার আগে শুনানিকেন্দ্র ঘুরে গেলেন ওই যুবক!

 রাজ্যজুড়ে এসআইআর শুনানি চলছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে শুনানির নামে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। সদ্যবিধবা থেকে  শতবর্ষ পেরনো মানুষ হিয়ারিং-এ ছাড় পাচ্ছেন না কেউ। এবার ডাক পড়ছে বরপক্ষের! বিয়ের দিন হলেও হাজির হতে হচ্ছে শুনানিতে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের সন্মতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা নয়ন শেখের বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার। বিয়ের প্রস্তুতি সারতে সারতেই তিনি হাতে পান এসআইআরের শুনানির নোটিস। তারিখ দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ! নোটিশে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ৩০ জানুয়ারি শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত  থাকার নিদান ছিল। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়লেও, নয়ন পরে ঠিক করেন শুনানিকেন্দ্র ঘুরে সব মিটিয়েই বিয়ে করতে যাবেন। সেই মতো বরযাত্রী সঙ্গে নিয়েই শুক্রবার শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন  তিনি।

রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান সেইসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বরবেশে শুনানিকেন্দ্রে নয়নকে আসতে দেখে তিনিও হতবাক হয়ে পড়েন। বিষয়টা নিয়ে খোঁজ -খবর করে নয়নের শুনানির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তৎপর হন। আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘যুবকটি যে ভাবে নিজের অধিকার রক্ষায় সজাগ হয়ে বিয়ের সাজেই শুনানিতে এসেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। বিষয়টি জানার পর  দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি যাতে তিনি কাজ সেরে সঠিক সময়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন।’’ প্রশাসনিক তৎপরতায় দ্রুত সম্পন্ন হয় শুনানি প্রক্রিয়া। এসআইআরের যাবতীয় কাজ মিটিয়ে বিয়ে করতে রওনা দেন নয়ন।

প্রসঙ্গত, SIR শুনানিকেন্দ্রে বরযাত্রীসহ বরের হাজিরার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত মঙ্গলবার ঠিক এরকম ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন ডায়মন্ড হারবারের ২৬২ নম্বর বুথের মানুষ। ডায়মন্ড হারবারের ১ নম্বর ব্লকের বোলসিদ্ধি-কালিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ষাটমনিষা গ্রামের আনোয়ার হোসেন খানের বিয়ের দিন SIR শুনানির ডাক পড়েছিল। বিয়ে করতে যাওয়ার আগে বরের সাজে শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনিও। তাঁর সঙ্গে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন বরযাত্রীরাও। কারণ বরের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী মিলিয়ে ৩৮ জনের নামেই এসেছিল শুনানির নোটিশ।