দীর্ঘদিনের বাম রাজনৈতিক জীবন এখন অতীত। বর্তমানে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন প্রতীক-উর রহমান (Prateek Ur Rahman)। দলবদলের পর একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলার ভবিষ্যৎ।” তবু এতদিন তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে ছিল বাম সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্দোলনের পুরনো সব ছবি। অবশেষে বৃহস্পতিবার বদলে গেল সেই চিত্র। ফেসবুকের ডিসপ্লে ছবিতে দেখা গেল—তৃণমূলে যোগদানের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিচ্ছেন প্রতীক। ক্যাপশনে লিখলেন, “রাস্তাই একমাত্র রাস্তা।” বার্তাটা স্পষ্ট—মাঠে নেমে লড়াই তাঁর লক্ষ্য।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিপিএম প্রার্থী হয়েছিলেন প্রতীক-উর রহমান। কার্যত অসম লড়াইয়ে নেমে পরাজিত হন তিনি। সেই ভোটের দুবছর পর, রাজ্যে ফের নির্বাচনের আবহ- এবার বিধানসভা নির্বাচন। আগামী মাসেই নির্ঘণ্ট ঘোষণার সম্ভাবনা। এই প্রেক্ষাপটেই ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন প্রতীক। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান ছেড়ে তাঁর গলায় শোনা যায় ‘জয় বাংলা’ধ্বনি। প্রতীকের কথায়, “আমার নীতি নৈতিকতা বলে, ফ্যাসিস্ট শক্তি বা বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলই একমাত্র মঞ্চ।”
দলবদলের পর প্রাক্তন সহযোদ্ধা ও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে ক্ষমা চাইবেন বলেও জানিয়েছেন প্রতীক। কর্মী-সমর্থকদের কাছেও দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। তাতেই শুরু হয় জল্পনা—দলবদলের অল্প সময়ের মধ্যেই কি মোহভঙ্গ? যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রতীক ১০০ শতাংশ দলকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই জল্পনার মাঝেই ডিপি বদলে বার্তা দিলেন এখন তিনি তৃণমূলেরই সৈনিক, আর লড়াইয়ের মঞ্চ রাস্তাই।





