Header AD
Trending

বাম জমানার শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে অনুমতি হাই কোর্টের

বাম আমলে শিক্ষায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ফের প্রকাশ্যে এল। কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) আমলে তাঁর শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে নিয়মের বাইরে গিয়ে চাকরি দিয়েছেন, এমন অভিযোগের তদন্ত চাইলে রাজ্য সরকার শুরু করতে পারে। বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, সরকারি তহবিল থেকে এইভাবে অনৈতিক নিয়োগ ও বেতন দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

এই মামলার সূত্রপাত ২০১২ সালে। বিকাশ ভবনে বিভাগীয় সহকারী পদে কর্মরত তিথি অধিকারীকে বর্তমান সরকার বহিষ্কার করলে তিনি সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন। মামলাটি খারিজ হলেও আদালত তৎকালীন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানো হয়েছিল। তিথির বেতন দেওয়া হয়েছিল সর্বশিক্ষা মিশনের তহবিল থেকে, যা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থ। আদালতের মতে, এভাবে সরকারি কোষাগারের টাকা অনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০০৭ সালে তিথি অধিকারী সর্বশিক্ষা মিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে উলুবেড়িয়া ইস্ট সার্কলে কাজে যোগ দেন। পরে তাঁর চুক্তি একাধিকবার নবীকরণ হয় এবং ২০০৯ সালে তাঁকে বালি ইস্ট সার্কলে প্রজেক্ট অফিসার হিসেবে পাঠানো হয়। কিন্তু কাজের গাফিলতি ও অভিযোগের জেরে ২০১০ সালের পর তাঁর চুক্তি আর বাড়ানো হয়নি।

এরপর ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাঁকে বিকাশ ভবনে বিভাগীয় সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়, যা আদালতের মতে ছিল বেআইনি ও অনৈতিক। ২০১২ সালের আগস্টে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর ওএসডি তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেন এবং তাঁর জায়গায় অন্য কর্মী যোগ দেন।

তিথির অভিযোগ ছিল, কোনও কারণ দর্শানো বা লিখিত নোটিশ ছাড়াই তাঁকে সরানো হয়েছে। তবে আদালত সেই যুক্তি মানেনি। বরং আদালত স্পষ্ট করেছে, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে করা ওই নিয়োগ নিজেই বেআইনি। রাজ্য চাইলে তদন্ত শুরু করে দেখতে পারে, কীভাবে এমন অনৈতিক নিয়োগ ও সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়েছিল। আদালতের মত, তদন্ত হলে আরও অনেক অনিয়ম সামনে আসতে পারে।