ছানি অস্ত্রোপচারের পর ভয়াবহ সংক্রমণের জেরে ন’জন রোগীর দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে গোরক্ষপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দিকে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্য প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ সিল করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের চোখে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই হাসপাতালে একটি চক্ষু শিবিরে মোট ৩০ জনের ছানি অস্ত্রোপচার হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই ১৮ জনের চোখে জটিলতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি ক্রমে ভয়াবহ আকার নেয়, ন’জন রোগীর দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, চোখ বাঁচানো সম্ভব নয়। অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত চোখ বাদ দিতে হয়।
রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লি, লখনউ এবং বারাণসীর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের কিছুদিনের মধ্যেই চোখ ফুলে যায়, রক্ত ও পুঁজ বেরোতে থাকে, শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা। এক রোগীর পরিবারের দাবি, একই দিনে অস্ত্রোপচার হওয়া একাধিক সদস্যের চোখেই একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে স্বাস্থ্য দফতর হাসপাতাল পরিদর্শন করে এবং চক্ষু বিভাগ সিল করে দেয়। জেলা শাসক দীপক মীনা জানিয়েছেন, দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী তাঁদের রেজিস্ট্রেশনও বাতিল হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।





