আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার কলকাতার নানা জায়গায় মিছিল-বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন আরজি করের নির্যাতিতার মা-বাবা। সেই নবান্ন অভিযান ঘিরে তুমুল অশান্তি। পার্ক স্ট্রিটে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কার্যত ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। পার্ক স্ট্রিটে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পল-সহ বিজেপি নেতানেত্রীরা। এদিকে, সাঁতরাগাছিতেও ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগনোর চেষ্টা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, জলের বোতল ছোড়া হয়। বিজেপির এই সুপরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টাকে ধিক্কার জানাল তৃণমূল। শুভেন্দু অধিকারী ,শঙ্কর ঘোষ-সহ ১৫ জন বিজেপি বিধায়ককে নিয়ে এদিন মিছিল করেন । পার্ক স্ট্রিটের কাছে মিছিলে বাধা পান। তারপরই মিছিলের রুট বদল করেন শুভেন্দু। পার্ক স্ট্রিট মোড়ে গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন তিনি। এরপর পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েন মিছিলকারীরা। বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর দাবি, মিছিলে অভয়ার বাবা, মা-ও পুলিশের হামলার শিকার হন। অভয়ার মায়ের হাতে থাকা শাঁখা ভেঙে গিয়েছি বলেই অভিযোগ। জানা গিয়েছে মিছিল চলাকালীন নির্যাতিতার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে সেখান থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।শুভেন্দুর দাবি, কমপক্ষে ১০০ জন জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অবশ্য এক পুলিশকর্মীও রয়েছেন বলেই দাবি। তাঁর বুকে ইটের আঘাত লেগেছে।এদিকে, সাঁতরাগাছিতেও ব্যাপক উত্তেজনা। সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগনোর চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল, চুড়ি ছোড়া হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে জুতো দেখান বলে জানা গিয়েছে।প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের তরফে শর্তসাপেক্ষে শনিবার শান্তিপূর্ণ মিছিলের কথা বলা হয়। তাতে সায় দিয়েছিল রাজ্য পুলিশও। যেহেতু নবান্ন চত্বরে জমায়েত করা সম্ভব নয়, তাই সাঁতরাগাছিকে বিকল্প জায়গা হিসাবে বেছে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও বিজেপি আন্দোলনের নামে এহেন উত্তেজনা সৃষ্টি করায় স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে যাতায়াতকারীরা।এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, রাখিবন্ধন উৎসবের দিনে কলকাতার রাস্তায় ভাঙচুর চালিয়েছে বিজেপি। চালিয়েছে তান্ডব। মানুষ যাতে উৎসব পালন করতে না পারেন, সেই জন্য এই সব করা হয়েছে।





