ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। কেরিয়ারে ইতি টানলেন ভারতের প্রথম অলিম্পিক পদকজয়ী তারকা শাটলার সাইনা নেহওয়াল। প্রতিযোগিতামূলক ব্যাডমিন্টন থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চোট-আঘাতে ভুগতে ভুগতেই শেষ পর্যন্ত বুঝে গিয়েছেন—আর এগনো সম্ভব নয়।
একটি পডকাস্টে নিজের অবসর প্রসঙ্গে মুখ খুলে সাইনা বলেন, গত দু’বছর ধরেই তিনি কার্যত ব্যাডমিন্টন থেকে দূরে রয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি নিজের ইচ্ছায় ব্যাডমিন্টন শুরু করেছি, আবার নিজের ইচ্ছাতেই থামছি। আলাদা করে অবসর ঘোষণা করার প্রয়োজন আমি অনুভব করিনি। যখন বুঝে যাই আর পারছি না, তখনই থামা উচিত। সেটাই সবচেয়ে ভালো।”
চোটই যে তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান কারণ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সাইনা। ওই পডকাস্টেই তিনি জানিয়েছেন, হাঁটুর কার্টিলেজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং আর্থ্রাইটিসের সমস্যাও রয়েছে। এই বিষয়টি তিনি পরিবার ও কোচদের আগেই জানিয়েছিলেন। সাইনার কথায়, “বিশ্বসেরার জায়গায় থাকতে হলে দিনে আট-ন’ঘণ্টা অনুশীলন করা দরকার। আমি সেখানে দু’ঘণ্টার বেশি এগতে পারতাম না। হাঁটু আর আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছিল না।”
২০০৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্যাডমিন্টন কোর্টে পা রাখা সাইনা দীর্ঘদিন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের মুখ ছিলেন। ২০১০ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা, ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। তিনিই প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় যিনি অলিম্পিকে দেশকে পদক এনে দিয়েছিলেন। এছাড়াও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো ও ব্রোঞ্জ, ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা এবং এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ—অসংখ্য সাফল্যে ভরা তাঁর কেরিয়ার। জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও সোনা জিতেছিলেন তিনি। তবে ২০১৬ রিও অলিম্পিকের পর থেকেই হাঁটুর চোট তাঁকে ধীরে ধীরে পিছনে ঠেলে দেয়।
শেষবার ২০২৩ সালের সিঙ্গাপুর ওপেনে কোর্টে দেখা গিয়েছিল সাইনাকে। অবশেষে ব্যাডমিন্টন কোর্টকে চিরবিদায় জানিয়ে দিলেন ভারতের এই কিংবদন্তি শাটলার।





