Header AD
Trending

১০০ রানে ব্রিটিশ বধ ভারতের, হেলায় অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয় বৈভবদের

এতটা একপেশে ফাইনাল ম্যাচ শেষ কবে দেখা গিয়েছে বা আদৌ হয়েছে কিনা তা চট করে বলতে পারবেন না পরিসংখ্যানবিদরাও। ইংরেজদের প্রায় একার হাতেই হারিয়ে দিলেন বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলে ভারতের স্কোরকে ইংল্যান্ডের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান তিনি। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ভারতের অধিনায়ক কপিলদেব এরকমই একটি ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। পরিস্থিতি আর পরিবেশের বিচারে সেই ইনিংস হয়তো অনেকটা এগিয়ে থাকবে। তবে আজকের বৈভবের ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কম নয়। তারে ইনিংস বুঝিয়ে দিল ভবিষ্যতে তারকা হওয়ার সমস্ত মসলা মজুদ রয়েছে বৈভবের মধ্যে।

ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৯ উইকেটে ৪১১ রান। জবাবে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৩১১ রানে। শেষের দিকে আপ্রাণ চেষ্টা করেন সেলেব ফালকনার। কিন্তু তাঁর শতরানও ইংল্যান্ডকে ১০০ রানের লজ্জাজনক পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি। এই নিয়ে ৬ বার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত।

শুক্রবারের ফাইনালে একাই সব আলো শুষে নিলেন বৈভব। ফাইনাল ম্যাচে প্রত্যেক খেলোয়ার চাপে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হারারেতে বৈভব শুরু থেকেই এমন ভাবে খেললেন, যেন চাপ শব্দটারই পৃথিবীতে কোন অস্তিত্ব নেই। আর বই বা ফর্মে থাকলে কী হতে পারে হাতে কলমে টের পেলেন ইংরেজ বোলাররা। তার ১৭৫ রানের ইনিংসে রয়েছে ১৫ টি ৪ ও ১৫টি ৬। পূর্বর দেখলে অনেকের স্বপ্ন মনে হতে পারে, কিন্তু বৈভব এটা বাস্তবে করে দেখিয়েছেন। গোটা বিশ্বকাপে একমাত্র আমেরিকা ম্যাচটি বাদে সবগুলোতেই কথা বলেছে তার ব্যাট। অর্ধশত রান করতে বৈভব নিয়েছেন ৩২ টি বল, শতরান পূর্ণ করেছেন ৫৫ বলে। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এটাই সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী ইনিংস। বৈভব একাই এত রান করে দেওয়ায় অন্যদের তেমন কিছু করার দরকার পড়েনি। অধিনায়ক আয়ুষ্ মাত্রে (৫৩), বাংলার অভিজ্ঞান কুণ্ডু ( ৪০) ও বিহান মালহোত্রার (৩০) রানের সৌজন্যে ৪০০র গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারত।

মাথায় ৪০০ রানের বোঝা নিয়েও খানিকটা ধীরে সুস্থে শুরু করে ইংল্যান্ড। আগে ইংরেজ ব্যাটসম্যানরা কখনোই সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি। বেন ডকিন্স (৬৬) ও মারেস (৫৫) আউট হওয়ার পর খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ফ্যালকনার ও জেমস মিন্টো। অষ্টম উইকেট জুটিতে ৯২ রান যোগ করেন তারা। তবু শেষ রক্ষা হয়নি।