Header AD

রাত পোহালেই  দুবাইয়ে ভারত-পাক দ্বৈরথ! হাইভোল্টেজ ম্যাচে চূড়ান্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন কারা?

রবিবার এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। ‘আপারেশন সিঁদুর’ এর পর এই প্রথম দুই চির প্রতিদ্বন্দী দেশ ক্রিকেট মাঠে পরস্পরের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে। এমনিতেই এই দুই দেশের মাঠ ও মাঠের বাইরের লড়াইয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকে। কিন্তু পহেলগাও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর এই ম্যাচ হওয়ায় সেই উত্তেজনা যেন বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দু দলই তাঁদের প্রথম ম্যাচ সহজেই জিতেছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল ভারত। তাছাড়াও বিগত বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান দেখলে এতা স্পষ্ট, ধারে ও ভারে অনেকটাই  পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। তবে সম্প্রতি ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতায় সলমন আলি আঘাদের আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও বেড়েছে। যদিও সেটা সূর্যকুমারদের হারানোর জন্য যথেষ্ট কি না তার প্রমাণ পাওয়া যাবে রবিবার।

সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভারত তৈরি। তবে তাঁদের বাত্তিং অর্ডার কী হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। শুভমান গিল ভারতের টি ২০ দলে ফিরে আসায় ওপেনিংয়ে জায়গা হারিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করেন গিল। পাকিস্তান ম্যাচেও কি একই ব্যাটিং অর্ডার থাকবে? এই নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। সীতাংশু বলেন, “স্যামসন যে পাঁচ বা ছ’নম্বরে খুব একটা ব্যাট করেনি, সেটা আমরা জানি। তবে ও  চ্যালেঞ্জ নিতে জানে। এই জায়গায় নেমেও ও ভালো খেলতে পারবে। ওর মতো ব্যাটারের যে কোনও জায়গায় ভালো খেলার ক্ষমতা রয়েছে। ওকে কোথায় নামানো হবে, সেটা দলের অধিনায়ক এবং কোচ ঠিক করবেন।”

অন্যদিকে, অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচ হওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে আগেও। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় ক্রিকেটাররা। মাসদুয়েক আগে বিশ্ব লেজেন্ডস লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি উপেক্ষা করেছিলেন শিখর ধাওয়ান-ইউসুফ পাঠানরা। ভারতীয় দল সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও পরিস্থিতিতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না তারা। পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্যায়েও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেনি ভারত। সেই ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন হরভজন সিং। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত খেলতে নামায় ক্ষুব্ধ ‘টারবুনেটর’। বিশ্বকাপজয়ী তারকা অফস্পিনার বলেন, “ সরকার যদি ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়, তাহলে ম্যাচ হতেই পারে। কিন্তু খেলার আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতি হওয়া দরকার।“ আবার আলপটকা মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়িয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউণ্ডার শাহিদ আফ্রিদি। দুবাইয়ে ম্যাচটি ভারতের বয়কট করা উচিত কি না এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ আমি সবসময় চাই ক্রিকেট খেলা যেন বন্ধ না হয়। এটা সবসময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভালো করতে সাহায্য করে।‘ এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। এর পরেই বিশ্ব লেজেন্ডস লিগের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য, “ কিছু প্রাক্তন ক্রিকেটার নিজেদের আইডেন্টিটি প্রমাণ করতে মরিয়া।“ দুবাইয়ে আগামী কাল ম্যাচ শুরু হতে হতে আর কী হয় এখন সেটাই দেখার।

নজরে কারাঃ

গিল বনাম আফ্রিদি: ভারতীয় সহ-অধিনায়কের দলে ঢোকা ও দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে বিতর্ক হলেও ইংল্যান্ড সফর থেকেই  দারুণ ছন্দে শুভমান গিল। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ৯ বলে ২০ রান করে প্রস্তুত গিল। অন্যদিকে শাহিন আফ্রিদি ত্রিদেশীয় সিরিজে ভরসা দিয়েছেন পাক আক্রমণকে। ওমানের বিরুদ্ধে ২০ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন তিনি।

সূর্যকুমার বনাম আব্রার: টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সেরা বাজি নিঃসন্দেহে সূর্যকুমার যাদব। ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি রাঙ্কিং-এ একনম্বরে আছেন ভারতের অধিনায়ক। ওপেনিংয়ে অভিষেক ও গিলের পর সূর্য ঝড় তুলতে প্রস্তুত। আমিরশাহির বিরুদ্ধে প্রথম বলেই ৬ দিয়ে শুরু সূর্যের। আর পাক স্পিনের সবচেয়ে বড় ভরসা আব্রার আহমেদ। ওমানের বিরুদ্ধে ১২ রানে একটি উইকেট পান। শেষ তিন ম্যাচে তুলেছেন ৭ উইকেট।

হার্দিক বনাম সাইম: হার্দিক পাণ্ডিয়া যে কখন কী করে দিতে পারেন, তা  জানা প্রায় অসম্ভব। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর রেকর্ড  দুর্দান্ত। আবার পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি সাইম আয়ুব। ব্যাটে-বলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ওমানের বিরুদ্ধে ৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলেছেন সাইম

বুমরাহ বনাম হ্যারিস: দুবাইয়ের পিচে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে বোলিং। বুমরাহর মতো পেসার থাকলে যে কোনও দলের অ্যাডভান্টেজ । পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের টপ অর্ডার। সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামানদের পাশাপাশি মহম্মদ হ্যারিসের মতো খেলোয়াড়ও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেন। ওমানের বিরুদ্ধে  ৪৩ বলে ৬৬ রান করেন হ্যারিস।

ফখর বনাম কুলদীপ / বরুণ: চোট সরিয়ে দলে ফিরেছেন ফখর জামান। ভারতের বিরুদ্ধে বরাবর  ভালো খেলেন তিনি। ওমানের বিরুদ্ধে ১৬ বলে ২৩ রান করেন ফখর।  কিন্তু স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতা আছে ফখরের।  কুলদীপ যাদবকে কতটা সামলাতে পারবেন, সেটা একটা বড়  প্রশ্ন। আমিরশাহির বিরুদ্ধে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা  হন কুলদীপ।  অন্যদিকে কুলদীপের দোসর হয়ে থাকবেন রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। আমিরশাহির বিরুদ্ধে ৪ রান দিয়ে ১ উইকেট  নিয়েছেন বরুণ। দুবাইয়ের পিচে এই দুই স্পিনারের ঘূর্ণি সামলাতে বিপাকে পড়তে পারে পাক দল।