SIR প্রক্রিয়ায় ৭ এইআরও (AERO)কে সাসপেন্ড করা নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) এসআইআর-এর কাজ নিয়ে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। গত রবিবার রাজ্যের সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার কথা জানিয়ে নবান্নকে চিঠি পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল, অবিলম্বে কমিশনের নির্দেশ পালন করতে হবে। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না-কাটতে সরাসরি সেই সাত জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করে কমিশন। মঙ্গলবার ওই সাত আধিকারিকেরই পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, “যাঁদের ওরা ডিমোশন করবে, তাঁদের প্রোমোশন করব।”
ঘটনার প্রেক্ষাপটটি হল, ওই সাত জনই রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন-এ এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন। তবে এসআইআরের কাজে তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন নির্বাচন কমিশন। সেই বিষয় উল্লেখ করেই ওই সাতজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি পাঠায় কমিশন। এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে ওই সাত আধিকারিকের সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বলেন, “তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হল না তাঁদের অপরাধটা কী?” তার পাশাপাশি, কমিশনের তরফে ঘনঘন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে একের পর এক বার্তা পাঠানো হচ্ছে এবং প্রত্যেকটিতে আলাদা নির্দেশ থাকায় তৈরি হচ্ছে ‘টোটাল কনফিউশন’, যা তাঁর মতে বেআইনি। তিনি আরও বলেন, “বিএলও , ডিএম, ইআরওদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করছে কমিশন। দিল্লির জমিদারদের কথায় চলছে তুঘলকি কমিশন। রাজনীতির নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।” কমিশনকে ‘টর্চার কমিশন’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
শেষে কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন— “সবাই আইন মেনে চলুক। যা ইচ্ছে তাই তারা করতে পারে না।” ভোটাধিকার রক্ষায় লড়াই চলবে।





