Header AD

আমেরিকার মদতে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইজরায়েলের! তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ, জরুরি অবস্থা তেল আভিভে

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে  একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইজরায়েল কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তেহরানের একাধিক এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্‌জ জানিয়েছেন, এটি একটি ‘সতর্কতামূলক’ এবং আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভ-এও জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানেও সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সাবধান করা হয়।

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লায়ন্স রোর’। দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজেই এই নামকরণ করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরানে চালানো অভিযানের নাম ছিল ‘রাইজ়িং লায়ন’। হামলার পর ইরানের এক প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং তা শীঘ্রই।

অন্যদিকে, সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে নিরাপত্তার কারণে গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দফতরের কাছাকাছি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সুর শোনা গেছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও। তাঁদের দাবি, ইরান নমনীয় না হলে পরিণতি ভুগতে হবে।

সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে একাধিক দফা বৈঠক হলেও কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ইরানের কয়েকটি পরমাণু প্রকল্প বন্ধ এবং সঞ্চিত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি তোলা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া তারা অতিরিক্ত শর্ত মানবে না এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

উল্লেখ্য, গত বছরও ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১২ দিন ধরে চলা সেই সংঘর্ষে ইরানের পরমাণু স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।