বারাসাতের কালীপুজোর একটা ঐতিহ্য রয়েছে। পুজোর দিনগুলো গোটা শহর আলোয় সেজে থাকে। ভিড়ও হয় প্রচণ্ড। সেই ঐতিহ্যবাহী বারাসতের কালীপুজো এবার পৌঁছতে চলেছে ইউনেস্কোর কাছে। আর সেই লক্ষ্যকে সফল করতে বারাসত পুলিশের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কালীপুজো নিয়ে এক সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া পুজোর দিনগুলিতে বারাসতবাসী হিসেবে পরিচয় সুনিশ্চিত করতে আধার কার্ড ও কর্মক্ষেত্রের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার কথা বলেছেন।
শুক্রবারের সমন্বয় বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বারাসত শহরের অধিকাংশ পুজো মূলত ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া হওয়ায় দুপুরের পর থেকেই ডাকবাংলো থেকে ময়না পর্যন্ত কার্যত দর্শনার্থীদের দখলে চলে যায়। ভিড় সামাল দিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে পুলিশ কর্তারা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। দুর্ঘটনা ও যানজট এড়াতে বারাসাত শহরে ঢোকার চতুর্দিকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে রাত দুটো পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নো-এন্ট্রি থাকবে। কোনওভাবেই পণ্যবাহী গাড়ি শহরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কলকাতাগামী দূরপাল্লার বাসগুলোকে জাগুলি মোড় থেকে ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় সড়কের ধারে কোনও রকমের স্টল, ওভারহেড গেট না করার সুপারিশ করেছে পুলিশ। মণ্ডপের বাইরের গেটের সামনে কোনওভাবেই মেলা করা যাবে না। এন্ট্রি ও এগজিট থাকবে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা।
যান নিয়ন্ত্রণের ফলে দর্শনার্থীদের সুবিধা হবে বলেই অনুমান পুলিশ কর্তাদের। উল্টোদিকে পুলিশের ওই সিদ্ধান্তে কর্মস্থল থেকে ছুটির পর বাড়ি পৌঁছতে সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের।পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়ার আশ্বাস, ‘গত বছর খুব ভালোভাবে ভিড় সামাল দিয়েছি আমরা। এ বছরও ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সঠিক রাখার চেষ্টা করব। দর্শনার্থীদের চাপ খুব বেশি হলে কয়েক ঘণ্টার জন্য জাতীয় সড়ক বন্ধ রাখা হবে। অফিস ফেরত বাসিন্দাদের বাড়ি পৌঁছতে যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য আধার কার্ড ও কর্মক্ষেত্রের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।’





