Header AD

মহুয়া-প্রশান্তের ভাইরাল ভুয়ো চ্যাটকাণ্ডে চাঞ্চল্য! নয়ডায় অভিযুক্ত ধরতে গিয়ে ‘বাধা’র মুখে বাংলার পুলিশ

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের নামে একটি তথাকথিত ব্যক্তিগত ‘চ্যাট’-এর স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই চ্যাটকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া বলে দাবি করে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাংসদ মহুয়া। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, স্ক্রিনশটটি নকল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি। এমনকি এই কাণ্ডের অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে বাংলার পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা সুরজিৎ সেনগুপ্ত নামে এক ব্যক্তি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। দাবি করা হয়, সেটি মহুয়া মৈত্র ও প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষায় কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন যে ওই চ্যাটটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা।

তদন্তের ভিত্তিতে সুরজিৎ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। তাঁকে নোটিস পাঠিয়ে থানায় হাজিরা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় ওই ব্যক্তির নামে। কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চার সদস্যের একটি বিশেষ দল নয়ডায় রওনা দেয় অভিযুক্তকে ধরতে।

কিন্তু সেখানেই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, নয়ডার ফেজ টু থানার পুলিশ কৃষ্ণনগর পুলিশের দলটিকে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। এমনকি স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপের জেরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলেও দাবি। চৌকি নম্বর ১১০ এলাকার কিছু পুলিশকর্মী অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষ্ণনগর পুলিশের।

কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার আইসি জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ নাকি মৌখিকভাবে জানিয়েছে যে ‘উচ্চমহল’ থেকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিজেপির স্থানীয় মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে কৃষ্ণনগর পুলিশের বিশেষ দল এখনও নয়ডায় অবস্থান করছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে দুই রাজ্যের পুলিশের সমন্বয় ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।