Header AD

ময়নায় বিরোধী শিবিরে বড়সড় ভাঙন! তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপির প্রভাবশালী নেতা চন্দন মণ্ডল

বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন। বিজেপির প্রভাবশালী নেতা চন্দন মণ্ডল শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। কলকাতার তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা তাঁর হাতে তুলে দেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য (Chandrima Bhattacharya), তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং তমলুক সাংগঠনিক জেলার নেতা সুজিত রায়।

দলবদলের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দন মণ্ডল (Chandan Mondal) স্পষ্ট জানালেন, এটি তাঁর রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিক সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, ময়নার মানুষের স্বার্থে এবং এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি শাসকদলে যোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, এতদিন এলাকার বিজেপি বিধায়ক সাধারণ মানুষের জন্য কার্যত কোনও কাজই করেননি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাগচা এলাকায় বিজেপির একচেটিয়া ভোট নিশ্চিত করতে চন্দন মণ্ডলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁর এই দলত্যাগে গেরুয়া শিবিরে চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তমলুক, ময়না, কাঁথি-সহ একাধিক এলাকায় বিজেপি সংগঠন মজবুত হয়েছে। দলের এই প্রভাব বিস্তারে চন্দন মণ্ডলের অবদানও কম নয়। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই এলাকায় প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান। তৃণমূলে যোগ দিয়ে চন্দন মণ্ডল বলেন, “ময়নার মানুষের জন্য আমি কাজ করতে চাই। ওখানে এতদিন ধরে বিজেপির একজন বিধায়ক আছেন, কিন্তু তিনি কিছুই করেননি মানুষের জন্য। ময়নার মানুষ মূলত মৎস্যজীবী। তাঁদের মাছচাষ নিয়ে হাজার সমস্যা আছে। আমি সেসব মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে সমাধান করবেন। আমি চাই, তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে থেকে যাতে ময়নাবাসীর সমস্যার সমাধান করতে পারি।”

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ময়না কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপির ক্রিকেটার বিধায়ক অশোক দিন্দা। তবে ছাব্বিশের ভোটের আগে চন্দন মণ্ডলের এই সিদ্ধান্ত ময়নার রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।