আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে আর্থিক ঘাটতি কমিয়ে জনকল্যাণমূলক বাজেট পেশ করল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। শুক্রবার পুরবাজেট উপস্থাপন করে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, বিপুল আর্থিক চাপের মধ্যেও শহরবাসীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েই বাজেট তৈরি হয়েছে। এদিন গত অর্থবর্ষের তুলনায় ঘাটতি কমিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পরে এ বছরের শেষদিকে হতে পারে পুর নির্বাচন। পুরভোটের আগে মেয়র হিসাবে ফিরহাদ হাকিম শেষ বাজেট পেশ করলেন। এবারের বাজেটে শহরে রাস্তা ও সাফাই কাজে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সবথেকে বেশি বরাদ্দ হয়েছে সাফাই খাতে। সড়ক খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোটের আগে মহানগরের উন্নয়নে আরও বেশি জোর দিতে চান মেয়র।
শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় বাজেট পেশ করেন মেয়র। এবারের বাজেটে বসতি উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ ও শহরে দারিদ্র দূরীকরণেও জোর দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কলকাতা পুরসভার মোট আয় ধরা হয়েছে ৫৫২৪.৮৪ কোটি টাকা এবং ব্যয় ৫৬৩৯.৫৬ কোটি টাকা। ফলে প্রাথমিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ১১৪.৭২ কোটি টাকা। যদিও ঘোষিত হিসাবে ১১১ কোটির ঘাটতির কথাই তুলে ধরা হয়েছে। তবে অতীতে দেখা গিয়েছে, ঘাটতি বাজেট পেশ হলেও শেষ পর্যন্ত কোষাগারে উদ্বৃত্তই থেকে গিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১২৬.৪০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করা হলেও বছর শেষে ৩৫১.৪৯ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত হয়েছিল। একই ভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষেও শেষ পর্যন্ত ৩২০.৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত হয়েছিল পুরসভার কোষাগারে। কলকাতা পুরসভার নতুন বিল্ডিং রুলসে রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য ভাবে লক্ষ্মী ভাণ্ডার শহরে নতুন করে ১ লক্ষ ২৭ হাজার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বর্তমানে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডে মোট লক্ষ্মী ভাণ্ডারের উপভুক্তাদের সংখ্যা দাঁড়াল ৭লক্ষ ৮৩হাজার। এছাড়া ই-পরিষেবার উপরে জোর দেওয়ার কথা বলে বলেন মেয়র।
এ বারের বাজেটে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বস্তি ও ‘উত্তরণ’ প্রকল্পের উন্নয়নে। পাশাপাশি রাস্তা মেরামত, আলো-সহ নাগরিক পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। আগের মতোই পানীয় জলের সরবরাহ আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বাজেটে। নির্বাচনের আগে এই বাজেটকে রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজেট শেষে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমাদের ওয়েলফোয়র স্টেট। তাই বকেয়া থাকে। যত টাকা আসে তার থেকে বেশি খরচ হয় সাধারণ মানুষের উন্নয়নের খাতে। তবে পুরসভার যে আয় হয়েছে, তার সঙ্গে আরও ৩৪৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় রেভিনিউ সাসপেন্স হিসাবে রাখা হয়েছে। এই টাকা কোনও খাতে ঢোকানো হয়নি।”





