Header AD

বিপজ্জনক বেসরকারি বাজার বন্ধ করতে উদ্যোগী পুরসভা, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মেয়র ফিরহাদের

শহরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ বেসরকারি বাজার বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যেখানে সামান্য ঝুঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে—এই রকম বাজার আর খোলা রাখা হবে না। সোমবার কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে স্পষ্ট ভাবে এই কথা জানিয়েছেন মেয়র। তাঁর অভিযোগ, এই সব বাজার বেসরকারি মালিকানার অধীন। বার বার তাঁদের বাজার সংস্কারের জন্য বলা হচ্ছে। তাঁরা সাড়া দিচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে শহরের বিপজ্জনক সব বেসরকারি বাজার বন্ধ করে দিতে পুরসভা বাধ্য হবে এবং এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার কলকাতা পুরসভার মাসিক বাজেট অধিবেশন হয়। সেই অধিবেশনে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় পুর–কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, দুর্দশাগ্রস্ত সরকারি, বেসরকারি বাজারগুলি নিয়ে পুরসভা কোনও নির্দেশিকা জারি করছে কি না? এলাকায় এলাকায় এই ধরনের বাজারগুলি পুরসভার কাছে ‘দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেন মীনাক্ষী। তাঁর প্রশ্ন ছিল, এই সমস্যা সমাধানে পুরসভা কি কোনও দিশা দেখাবে? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, সরকারি বাজারগুলির ক্ষেত্রে পুরসভা সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তার সঙ্গে বেকবাগানের পার্ক সার্কাস মার্কেটের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মেয়র। ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক পার্ক সার্কাস মার্কেটের বাড়ি ভেঙে নতুন করে তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। তবে বেসরকারি বাজারের ক্ষেত্রে পুরসভা তেমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না জানিয়ে মেয়রের ব্যাখ্যা, ‘ওই সব বাজার ব্যক্তি–মালিকানার অধীনে। দুর্দশাগ্রস্ত বেসরকারি বাজারের মালিকদের আমরা অনেক বার ডেকেছি। তাঁরা সাড়া দিচ্ছেন না। শহরের মানুষের স্বার্থে আমরা দিনের পর দিন এই সব বিপজ্জনক বাজার চলতে দিতে পারি না। এ বার এই ধরনের বাজার বন্ধ করে দেব।’

উত্তর কলাকাতার শ্যামবাজার, বউবাজার, শিশির মার্কেট, দক্ষিণ কলকাতার যদুবাবুর বাজার, পার্ক সার্কাস মার্কেট, কালীঘাট বাজার–সহ একাধিক বাজার বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এই বাজারগুলি পুরসভা পাবলিক–প্রাইভেট–পার্টনারশিপ মডেলে উন্নত করতে চায়। এই সব বাজারের বাড়িগুলির এমন অবস্থা, যে কোনও দিন চাঙর খসে বড় বিপদের ঝুঁকি রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার যদুবাবুর বাজারের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা মেয়রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তবে পুরসভা সূত্রে খবর, ওই আলোচনার পরে যদুবাবুর বাজারের সংস্কারের প্রক্রিয়া বেশি দূর এগোয়নি। যার ফলে বেসরকারি বাজার নিয়ে কলকাতা পুরসভা তাই ঘোর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।