ইঙ্গিত মিলেছিল এক্সিট পোলেই। আর সেটাই প্রায় মিলিয়ে দিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই বিহারে উৎসবে মাতলেন NDA প্রার্থীরা। একের পর এক আসনের ফলাফল আসতে শুরু করে, আর তত হতাশা গ্রাস করতে থাকে মহাগঠবন্ধন শিবিরকে। বিহারের ভোটে শোচনীয় ফল হয়েছে বিরোধী জোট ‘মহাগঠবন্ধন’-এর। একতরফা ভাবে জয়ী হচ্ছে নীতীশ-বিজেপির জোট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন NDA প্রার্থীরা। ‘মহাগঠবন্ধন’ জোট সেখানে এগিয়ে মাত্র ৩৫টি আসনে। এই ট্রেন্ড যদি শেষপর্যন্ত বজায় থাকে , তাহলে NDA জোট ২০০ ফিগার পেরিয়ে যাবে যা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এনডিএ শিবিরের জয় ঘোষণা এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা হয়ে রয়ে গিয়েছে। জয় নিশ্চিত হতেই সমাজমাধ্যমে পোস্টে বিহারবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিহারে শাসকজোটের এই সাফল্যকে ‘ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তবে যেভাবে সমানে সমানে শরিক দলের সঙ্গে টক্কর চলছে বিজেপির, তাতে নীতীশই ফের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন কি না তা এখনই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। এই আবহেই সমাজমাধ্যমে নীতীশ কুমারই ফের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন পোস্ট করে, পরে সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয় JDU।
ভোটে সাফল্যের পরে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানালেন বিহারের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। এ বারের বিধানসভা ভোটে শাসক জোট কোনও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ঘোষণা করেনি। আসন সংখ্যার দিক থেকে ২০২০ সালের মতো এ বারও এগিয়ে রয়েছে বিজেপিই। এ অবস্থায় সমাজমাধ্যমে মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে শাসক জোট এনডিএ-তে ঐক্য়ের কথা তুলে ধরলেন নীতীশ। তিনি লেখেন, ‘এ বারের ভোটে এনডিএ সম্পূর্ণ ঐক্য দেখিয়েছে এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।’ পাটনায় নীতীশ কুমারের বাসভবনের সামনে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন কর্মী-সমর্থকেরা। দলীয় পতাকা হাতে, আবির মেখে, নাচে-গানে ভোটের সাফল্য উদ্যাপন করছেন তাঁরা। বিরোধী শিবিরের এই ফল নিয়ে এ বার মুখ খুললেন ‘মহাগঠবন্ধন’-এর উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা বিকাশশীল ইনসান পার্টি (ভিআইপি) প্রধান মুকেশ সাহানি। বিকাশশীল উন্নয়ন পার্টিও ধরাশায়ী। মাত্র ১টি আসনে এগিয়ে তারা। মুকেশের দাবি, মহিলারা অন্ধের মতো নীতীশকে সমর্থন করেছেন। তাই এনডিএ এই বিপুল ভোট পেয়েছে।
দলের ফল শোচনীয়। তবে রাঘোপুর থেকে ‘পারিবারিক আসন’ ধরে রাখলেন লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী যাদব। মাঝে পিছিয়ে পড়লেও শেষমেশ ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতে কোনওমতে মুখরক্ষা করলেন তেজস্বী। অন্যদিকে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে দুরন্ত পারফরম্যান্স চিরাগ পাসওয়ানের দলের। এবারের নির্বাচনে লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) লড়েছে ২৯টি আসনে। তার মধ্যে ২২টি আসনে জয় অনেকটাই নিশ্চিত এলজেপি প্রার্থীদের। যেমন মহুয়া কেন্দ্রে এলজেপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছেন লালুর বড় ছেলে তেজপ্রতাপ। সব মিলিয়ে বিহারের মুখে এনডিএ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এলজেপি এবং হামের একটা বড় ভূমিকা যে থাকবে তা কার্যত স্পষ্ট। এমনকী বিহার সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে হবেন তা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও জোটে থাকা এলজেপি এবং হামের বড় ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





