Header AD

পাহাড়–ডুয়ার্সে পর্যটনে নতুন অধ্যায়! বৌদ্ধ সার্কিটে অন্তর্ভুক্তির জন্য কেন্দ্রকে চিঠি রাজ্য ইকো-ট্যুরিজম কমিটির

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দিল্লির দরবারে লড়াইয়ের পর অবশেষে মিলতে চলেছে স্বীকৃতি। পাহাড় ও ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার। বৌদ্ধ ধর্মকেন্দ্রিক পর্যটনকে সামনে রেখে গড়ে উঠতে চলেছে বহুচর্চিত বৌদ্ধ সার্কিট। সেই সার্কিটে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong) জেলা এবং ডুয়ার্সকে (Dooars ) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য ইকো ট্যুরিজম (West Bengal Eco Tourism) কমিটির চেয়ারম্যান তথা হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু।

২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন উত্তর-পূর্ব ভারতকে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন। এতদিন বিদেশি বৌদ্ধ পর্যটকদের বড় অংশ নেপাল ও ভুটানমুখী হলেও, নতুন এই উদ্যোগে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলিও আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে উঠে আসবে বলে মনে করছেন ট্যুর অপারেটররা।

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বৌদ্ধ সার্কিট অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, অসম, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা—এই ছয় রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত হবে। তবে রাজ বসুর দাবি, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্সকে এই সার্কিটে যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, “২০০৮ সাল থেকেই বৌদ্ধ সার্কিট গঠনের দাবিতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। একাধিকবার কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে।” সূত্রের খবর, এই বৌদ্ধ সার্কিটে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের কথা মাথায় রেখে প্রায় ৪ হাজার বৈদ্যুতিক বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য একদিকে যেমন তীর্থ পর্যটনকে শক্তিশালী করা, তেমনই বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণ।

গবেষকদের মতে, বিহার ছাড়াও সিকিম ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে বৌদ্ধ সভ্যতার বহু নিদর্শন। প্রাচীন পৌন্ড্র রাজ্য থেকে বিতাড়িত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও তান্ত্রিকরা একসময় করতোয়া নদীর তীরবর্তী অঞ্চল, বর্তমান ময়নাগুড়ি ও ডুয়ার্সের জঙ্গলঘেরা এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘দেওমালি’ নামে পরিচিত সিল্ক রুট ধরে তাঁরা পৌঁছে যেতেন তিব্বত ও নেপালের লুম্বিনীতে। ইতিহাস অনুযায়ী, চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-ও এই পথ ধরেই করতোয়া পার হয়ে কামরূপে গিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেই দার্জিলিং, কালিম্পং ও ডুয়ার্সকে বৌদ্ধ সার্কিটে যুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে। সব মিলিয়ে, বৌদ্ধ সার্কিট বাস্তবায়িত হলে পাহাড় ও ডুয়ার্সের অর্থনীতি, পর্যটন এবং ঐতিহ্য—তিন ক্ষেত্রেই বড়সড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।