রাজ্যের কৃষি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডলে তিনি জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই চারটি নতুন উচ্চফলনশীল ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করেছেন রাজ্য কৃষি দফতরের গবেষকরা।’
দীর্ঘ কয়েক বছরের গবেষণার ফল হিসেবে পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের হাত ধরে এই নতুন প্রজাতিগুলি তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ জেলা—পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার জন্য ‘সুভাষিনী’, ‘লহমতি’ ও ‘মুসাফির’ নামে তিনটি নতুন ধানের ভ্যারাইটি তৈরি হয়েছে। খরিফ মরশুমে এই ধানগুলি হেক্টর প্রতি প্রায় ৫২ থেকে ৫৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বন্যাপ্রবণ এলাকার কথা মাথায় রেখে ‘ইরাবতী’ নামে একটি নতুন ধানের প্রজাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকলেও নষ্ট হবে না এবং সহজে হেলে পড়বে না।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাজ্য সরকার কৃষকদের স্বার্থে গবেষণার মাধ্যমে মোট ২৫টি নতুন ফসলের প্রজাতি উদ্ভাবন করেছে, যার মধ্যে ১৫টিই ধানের ভ্যারাইটি। প্রশাসনের মতে, এই নতুন ভ্যারাইটিগুলি রাজ্যের জলবায়ু বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলিতে কৃষি উৎপাদনকে আরও স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খরা ও বন্যা—দু’ধরনের এলাকাতেই এই নতুন ধান চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকিও কমবে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, তার মোকাবিলায় এই ধরনের অভিযোজিত ধান ভবিষ্যতে রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই সাফল্যের জন্য গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বিজ্ঞানীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।





