Header AD
Trending

শীর্ষ আদালতের নতুন নির্দেশ! SIR -এর কাজে চূড়ান্ত ব্যর্থ কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ তৃণমূলের

বিধানসভা ভোটের  আগে রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মঙ্গলবার বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশে বলা হয়েছে, এখনও প্রায় ৭০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। সেই কাজ দ্রুত সমাধা করতে অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এনে কাজে গতি আনতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের SIR-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক নিয়োগ করার কথা জানিয়েছেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এই রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতায় আরও প্রবলভাবে সরব হয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ায় কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং তার জন্য জটিলতা আরও বেড়েছে । সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট বিশাল বাধা মোকাবিলায় প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বিচারকদের মোতায়েনের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এই হস্তক্ষেপ নিজেই অনেক কিছু বলে।

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ ঘিরে জটিলতা বাড়ছে। আগামী ২৮ তারিখ রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, তা সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এখনও বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই বাকি। হাতে মাত্র তিনদিন সময়। এর মধ্যে ৭০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নথি খতিয়ে দেখা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে রাজ্যের এসআইআর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে ওঠে শুনানির জন্য। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি হয়। পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করে বিচারপতিরা পরামর্শ দেন, এসআইআরের কাজ সময়মতো শেষ করতে দরকারে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার আদালতগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানকার জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হোক।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টে দলের বক্তব্য,ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাংলার প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার যে সুগভীর চক্রান্ত কমিশন শুরু করেছিল, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে আজ তা ফের ভেস্তে গেল। বাংলার মাত্র ২৫০ জন বিচারকের পক্ষে ৫০ লক্ষ ‘Logical Discrepancies’-এর পাহাড়প্রমাণ কাজ শেষ করা অসম্ভব জেনেও কমিশন গড়িমসি করছিল। আসলে বিজেপির দাসে পরিণত হয়ে কমিশন বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এঁটেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, নথি যাচাইয়ের নামে বাংলার মানুষকে আর হয়রানি করা যাবে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাই ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে অতিরিক্ত বিচারক আনার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে বিজেপি যে ‘ভোটার বর্জন’ রাজনীতি শুরু করেছিল, আজ তা জনসমক্ষে নগ্ন হয়ে পড়েছে!

পাসাপাশি কমিশনকে কটাক্ষ করে তারা লেখেন, আধার কার্ড এবং মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড—এই দুই নথিকে বৈধ প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণের কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, যাঁদের নথি মিলছে না দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ‘কূট পরিকল্পনা’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই দুই নথি গ্রহণ করলেই জট কাটতে পারে। একইসঙ্গে শাসকদলের তোপ, বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যোগ সাজশ রয়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ভোটার তালিকা ঘিরে অন্য লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে দলের তরফে।

এদিন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারক নিয়োগের বিরোধিতা করেন৷ তাঁরা বলেন, “ওই বিচারকরা বাংলা ভাষা বুঝতে পারবেন না, ফলে সমস্যা হবে।” এর জবাবে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছে, যেহেতু ভৌগোলিকভাবে এই রাজ্যগুলি পাশাপাশি রয়েছে ফলে কিছু অংশের লোকজন পশ্চিমবঙ্গের ভাষা বোঝেন। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন বাংলায় SIR পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। পরবর্তীতে কাজ যেভাবে এগোবে সেইভাবেই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। পরিস্থিতি বিচার করে প্রধান বিচারপতি জানান, নথি যাচাইয়ের এই কাজে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জজ পদমর্যাদার অফিসারদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে কোনও আবেদন এলে সে বিষয়ে সাহায্য করার জন্য প্রধান বিচারপতি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের অনুরোধ করতে পারবেন।