Header AD

‘বহিরাগতরা ঢুকে স্থানীয়দের সরিয়ে দিয়েছে,  কাউন্সিলরদের ধমক, গদি মিডিয়াকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

আগামী সোমবার কালীপুজো। তার আগে শুক্রবার থেকেই  কলকাতায় কালীপুজোর উদ্বোধন শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গিরিশ পার্কে ফাইভ স্টার স্পোর্টিং ক্লাবে কালীপুজোর মণ্ডপে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উত্থাপন করলেন। তাঁর অভিযোগ, বহিরাগতরা এখানে ঢুকে বড় বড় বহুতল  তৈরি করছে আর তার জেরে স্থানীয় বস্‌তিবাসীকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরদের ধমক দিয়ে তিনি বলেন, “তোমরা কেন বস্তি গুলো থেকে বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছ না?” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কাউন্সিলরদের জানা উচিত কেন এবার শহরের অনেক বহুতলে জল ঢুকেছিল! কারণ এই বাড়িগুলি তৈরির সময় ড্রেনেজ নিয়ে কোনও ভাবনা-চিন্তা করা হয়নি। যা খুশি তাই হয়েছে। কোনও পরিকল্পনা করা হয়নি।“

প্রসঙ্গত, গত সোমবারই উত্তরবঙ্গ থেকে ভবানীপুরের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। পরিকল্পনামাফিক তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরকে বহিরাগত দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়। বলেছিলেন “গরিব মানুষের বস্তি তুলে বড় বাড়ি হচ্ছে। তা আমি সর্মথন করি না। বাইরের লোক দিয়ে পরিকল্পনা করে এগুলো করা হচ্ছে। আমাদের ভোটারদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা বাংলায় থাকেন, কাজ করেন, তাঁরাই আমাদের মানুষ। গরিবদের সাহায্য করা আমাদের মানবিক কর্তব্য।”

শুক্রবার এই একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্যে। এদিন তিনি বলেন, “আমি কাউন্সিলরদের বলছিলাম, কেন বস্তিগুলোকে তুলে সব ‘বাংলার বাড়ি’ করে দিচ্ছ না ? সেটাই তো ভালো হবে। কেউ বাইরে থেকে এসে একটা বাড়ি তৈরি করছে আর বস্তির ২০০ জনকে তাড়িয়ে দেবে, তা কী করে হয়? ওরা কি মানুষ নয়? তারা যে গরিব, সেটা তো দোষের নয়। তাই কাউন্সিলরদের বলছি, এই বিষয়টা নজরে রাখতে হবে। বহিরাগতরা এসে যেন বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করতে না পারে।”

পাশাপাশি তাঁর কথার অপব্যাখ্যা করা নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন গদি মিডিয়া তাঁর কথার অপব্যাখ্যা করেছে।“আমি বহিরাগত বলতে একটি রাজনৈতিক দলকে বোঝাতে চেয়েছি। কিন্তু যাঁরা এখানকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, তাঁরা আমাদের কলকাতার মানুষদের থেকে কোনও অংশে কম নন। বরং অনেক বেশিই কলকাতার।আমি বাংলাকে ভাল চিনি। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড ভাল চিনি। কোন সম্প্রদায়ের মানুষ কোথায় থাকে জানি। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন তাঁদের জন্য আমি বলিনি। ভোটের সময় বিজেপি বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসে। কোভিডের সময় কেউ যখন বেরত না আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এখানকার যাঁরা ভোটার তাঁরা এখানকার নাগরিক, আমি তাঁদের কথা বলিনি। তিনি যে কোনও রাজ্যের হতে পারে। আমি কাউন্সিলরদের বলেছি। বকেছি। এই যে কলকাতায় জল হল— কেন হল? তোমরা খবর রাখো? কলকাতা পুরসভা ৬ ঘণ্টার মধ্যে জল বের করে দিয়েছে। বিহার থেকে জল এসেছে তারপর। কলকাতা নৌকোর মতো। সব জল এখানে এসে পড়ে। গঙ্গাও ডুবুডুবু ছিল। কারণ ডিভিসি জল ছেড়েছিল। ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় যেদিন সেদিন গঙ্গা ডুবুডুবু ছিল। আমি রোজ নবান্ন যাওযার সময় গঙ্গা দেখে বুঝতে পারি কখন জল ছাড়ছে। একটা আলো খারাপ হলেও ববিকে ফোন করে বলি। আমি গাড়িতে ঘুমোই না। চোখ-কান খোলা রেখে চলি। সেদিনও কোটালের বান এসেছিল। অমাবস্যা-পূর্ণিমাতে হয়। বর্ষাতে হয়। এখন হবে না। গদি মিডিয়া নেগেটিভ প্রচার করে।“ শুক্রবার কালীপুজো উদ্বোধনে গিয়ে একথাই বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি প্রথমে গিরিশ পার্কে ফাইভ স্টার ক্লাব, জানবাজার ও শেক্সপিয়ার সরণি থানার সামনের পুজো এবং ইন্ডিয়ান ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন করেন।