Header AD
Trending

ভোটের আগেই ভোট করার ছক! ‘তুঘলকি কমিশন’-এর ‘থ্রেট কালচার’কে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী

বিহারে যে নথি গ্রহণযোগ্য বাংলা তা নয় কেন? SIR প্রক্রিয়ায় বাংলা আর বিহারে আলাদা নিয়ম কেন? এই অভিযোগে এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিহার ও বাংলায় ভিন্ন নিয়মে নথি গ্রহণের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। কমিশন তুঘলকি আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিহারে ফ্যামিলি রেজিস্টার গ্রহণযোগ্য হলে বাংলায় তা কেন মানা হচ্ছে না?” তাঁর অভিযোগ, কমিশন সঠিক নীতি মেনে কাজ করছে না। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও কমিশন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন, এটি এখন “তুঘলকি কমিশন”, এমনকি “ক্যাপচার কমিশন”-এ পরিণত হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে বলেন, “বাংলাকে কেন টার্গেট করা হচ্ছে? শুনানি প্রক্রিয়া শেষের আগেই কেন লগ ইন বন্ধ করা হল?”

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে রাজ্যের শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলার ক্ষেত্রে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে এবং বিজেপির স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন। এদিন হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়, সবই সামনে আসবে।” তিনি অভিযোগ করেন, “ক্ষমতা খাটিয়ে ভোটের আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার ছক কষছে।” ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তিনি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি কমিশনকে হুঁশিয়ার করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, “গণতন্ত্র মেনে কাজ করুন। জেনে রাখুন, আমাকে আঘাত করলে আমি প্রত্যাঘাত করি। আত্মসমর্পণ করব না। দিল্লির জমিদারদের নির্দেশে বাংলা চলবে না।”

নির্বাচন কমিশনের থ্রেট কালচার নিয়েও এদিন সরব হন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, “দিল্লির জমিদারদের কথায় তুঘলকি কমিশন যেভাবে বাংলার সাধারণ মানুষদের, অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছে, সাধারণ মানুষ তার জবাব দেবে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদের চক্রান্ত চলছে। গণতন্ত্রকে খতম করার চক্রান্ত করছে, ডোন্ট কেয়ার মনোভাব কমিশনের।”

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। সম্প্রতি রাজ্যে শুনানির প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সেই বাতিল তালিকা প্রকাশের দাবিও জানান তিনি।
শেষে কমিশনকে ‘লক্ষ্মণরেখা’ মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন— “সবাই আইন মেনে চলুক। যা ইচ্ছে তাই তারা করতে পারে না।” ভোটাধিকার রক্ষায় লড়াই চলবে।