হিংসা বিধ্বস্ত মণিপুরে গত দুবছরে একবারও পা রাখেননি প্রধানমন্ত্রী (PM) নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। পাশাপাশি, এই বিষয়ে খুবই কম শব্দ খরচ করেছেন তিনি। অবশেষে শনিবার সেখানে গেলেন । গোষ্ঠী সংঘাতে বিপর্যস্ত রাজ্যে এই প্রথম এসে চুড়াচাঁদপুরে ঘরহারাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী। আশ্বাস দিলেন, কেন্দ্র সরকার পাশে আছে।
প্রসঙ্গত, রক্তক্ষয়ী হিংসায় দু’বছর ধরে জ্বলছে মণিপুর (Manipur)। মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। ঘর ছাড়া আরও বেশি। কিন্তু এই দুই বছরে একবারও মণিপুরে আসেননি প্রধানমন্ত্রী। দু’বছর মণিপুরে না যাওয়ায় বিরোধীদের কোপের মুখেও পড়েন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, সেই দাগ মুছতেই উপহারের ডালি সাজিয়ে মণিপুরে পা রেখেছেন তিনি।
এদিন, মণিপুরে পৌঁছেই দু’বছরের হিংসায় ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করেন মোদি। চুড়াচাঁদপুর ছিল হিংসার ঘটনার কেন্দ্রস্থল। এখানে মৃত্যু হয় ২৬০ জনের। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ইম্ফল বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ৬৫ কিলোমিটার পাড়ি দেন প্রধানমন্ত্রী। চুড়াচাঁদপুরে পৌঁছে মণিপুরকে “সাহস ও দৃঢ়তার ভূমি” বলে প্রশংসা করেন তিনি। এরপর চুড়াচাঁদপুরের ত্রাণ শিবিরে বয়স্ক এবং শিশুদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। ত্রাণ শিবিরে শিশুরা হাতে আঁকা ছবি , ফুলের তোড়া এবং পালকের টুপি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয়। এই সফরে মোদির সঙ্গে ছিলেন মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা। শনিবার চূড়াচাঁদপুরের জনসভায় উপস্থিত হয়ে হিংসা ভুলে শান্তির আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, ‘উন্নয়নের জন্য শান্তি জরুরি।’ তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি ফেরাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিন ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। সভায় জানান, মণিপুরে সড়ক এবং রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করতে পদক্ষেপ করছে সরকার। জানা গিয়েছে, চুড়াচাঁদপুর থেকে মেইতেই অধ্যুষিত ইম্ফল উপত্যকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও ঘরছাড়াদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি।





