১৯০৫ সালে ব্রিটিশের বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় রাখি বন্ধন উৎসব করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উদ্দেশ্য ছিল হিংসা ভুলে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকের সামনে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরা।বর্তমানে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে যে ভাষার সন্ত্রাস চলছে গোটা দেশ জুড়ে তার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনে পথে নেমেছেন। রবীন্দ্রনাথের সেই ভাবনাকে অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী ও রাখিতে সম্প্রীতির বার্তা অপমান তাই এই বছরের ‘রাখি বন্ধন উৎসব’ শুধু আবেগের নয় বরং বাংলা বিরোধীদের ভাষা সন্ত্রাস ও বিভাজনের রাজনীতির প্রতিবাদের প্রতিফলন। পরিকল্পিতভাবে বাংলাভাষীদের উপর যারা আক্রমণ করছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলা ভাষাকে অসম্মান করে চলেছে – সম্প্রীতের এই উৎসবের দিনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই বাংলা বিরোধীদের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার শপথ নেওয়ার পালা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো ব্লক থেকে জেলা, গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র আজ সৌভ্রাতৃত্ব আর ভালবাসার বন্ধনে পালিত হচ্ছে রাখি বন্ধন উৎসব। রাখি উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন “বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল-পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান”।সকলকে জানাই পবিত্র রাখিবন্ধনের আন্তরিক শুভেচ্ছা। রাখি উপলক্ষে এক্স হ্যান্ডেলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও কবিগুরুর রাখি বন্ধন উৎসবকে স্মরণ করে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন।সম্প্রতি সংহতি সেতুবন্ধনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকে ৯ই আগস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সকাল ১১ টায় ‘রাখি বন্ধন উৎসব’ পালন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। উপস্থিত থাকবেন সমাজের সম্মানীয় বিশিষ্টরা। পাশাপাশি টলিপাড়াতেও শনিবার দিনভর সিনে টেকনিশিয়ান, কলাকুশলী, অভিনেতা-অভিনেত্রী পরিচালকদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন স্টুডিওতে রাখি বন্ধন উৎসব হবে বলে ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলা থেকে শহর সর্বত্রই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। কলকাতা সহ শহরতলীর বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের পথচলতি মানুষকে রাখি পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মিষ্টি – শরবত বিতরণ করার আয়োজনও করা হয়েছে।





