Header AD

চলছে উদ্ধারকাজ, রাস্তা বন্ধ থাকায় ঘুরপথই ভরসা পর্যটকদের! নিরাপদে নামিয়ে আনতে তৎপর প্রশাসন

ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে উত্তরবঙ্গ। একনাগারে বৃষ্টির জেরে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির জলে বানভাসি উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা। শনিবার সন্ধ্যা থেকে দার্জিলিঙে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। যা চলে রবিবার সকাল পর্যন্ত। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ২৪ ঘন্টায় ২৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে দার্জিলিঙে। বৃষ্টির জেরে তিস্তা,তোর্সা, জলঢাকার মতো নদী ভয়ংকর রূপ নেয়। তিস্তার জল ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর উঠে আসে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আলিপুরদুয়ার,কোচবিহার,জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলের তলায়।
বহু পর্যটক দার্জিলিঙে আটকে পড়েন। বৃষ্টির থামার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দ্রুত চেষ্টা করেন পাহাড় থেকে নেমে আসার। তবে প্রধান রাস্তা বন্ধ থাকায় বিকল্প দুটি রাস্তা তিনধারিয়া রোড ও দুর্গম পাংখা বাড়ি রোডই এখন সহায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২৩ জনের মৃত্যুর কথা জানা যায়। পরে আরও মৃতদেহ উদ্ধার যায় । প্রকৃতির রোষের মুখে পড়ে মৃতের সংখ্যা এখন ২৫। মৃতের মধ্যে ৫ জন নেপালের বাসিন্দা। এখনও বহু জায়গায় উদ্ধারকাজ চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃষ্টির তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক। ভেঙে গিয়েছে দুধিয়া থেকে মিরিকের পথের লোহার সেতু। সেতু ভেঙে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। প্রকৃতির বিধ্বংসী তাণ্ডবের হাত থেকে নিস্তার পায়নি পশুরাও। জল ঢুকে যায় বহু জঙ্গলে। অনেক পশুর দেহ ভেসে আসতে দেখা যায়। দার্জিলিং শহরে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ। মিরিকের রাস্তা সহ রোহিনী রোড রবিবার থেকে বন্ধ। পর্যটকরা অপেক্ষা করতে থাকেন যতক্ষণ না প্রকৃতি তার তাণ্ডবলীলা থামায়। তবে আজ সোমবার সকাল থেকে নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় আকাশ খানিকটা পরিষ্কার এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গিয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়াও সকাল থেকে নদীগুলির জলও নামতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির নজরদারি ও পর্যটকদের সাহায্যের জন্য খোলা হয়েছে নবান্নে ২৪ ঘন্টার কন্ট্রোল রুম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার সকালে নবান্নের কন্ট্রোলরুম থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছিলেন। এছাড়াও পাহাড়ের পাঁচ জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে তিনি বৈঠক ও করেন ভার্চুয়ালি। সোমবার তিনি গিয়েছেন উত্তরবঙ্গে।