দিল্লি লালকেল্লায় জঙ্গি হামলার পর সন্ত্রাস দমনে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত সরকার। শুক্রবার ভোররাতে দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর নবির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। জানানো হয়েছে, পুলওয়ামার বাড়িতে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। পেশায় চিকিৎসক উমরের পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। এবার তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হল উমরের বাড়ি। সেই সঙ্গে ব্যাপক তল্লাশি চলছে ভূস্বর্গজুড়ে। সোমবার লালকেল্লার সামনে যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেই গাড়ির মালিকানা ছিল উমর মহম্মদের। সেই বিস্ফোরণে পুলওয়ামার বাসিন্দা উমরের মৃত্যু হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্তকরণ করা হয়েছে তার দেহ। দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে উমরের ভূমিকা নিয়ে আপাতত তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই তার পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পুলওয়ামার কইল গ্রামের বাসিন্দা উমরের বউদি বলছেন, উমরের সামনে পরীক্ষা ছিল। তাই লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়াশোনা করত। একেবারে বইয়ের পোকা ছিল। বাড়িতে ফিরলেও সকলকে পড়াশোনা করতে বলত। সেই ছেলের এমন কাণ্ড শুনে আমরা স্তম্ভিত।“ তিনি আরও জানান, কঠিন পরিশ্রম করে পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানোর চেষ্টা করছিলেন উমরের মা। পরিবারে হাল ফেরাতে একমাত্র ভরসা ছিল উমর। কিন্তু সেই বই-এর পোকা ছেলেই নাশকতার সঙ্গে জড়িয়েছে, এটা গোটা পরিবারের পক্ষে খুবই হতাশাজনক। শুধুমাত্র উমরই নয়, কাশ্মীরের একাধিক চিকিৎসকের নাম জড়িয়েছে এই নাশকতায়। গত চার দিনে অন্তত ৮ জন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছে এই নাশকতার নেপথ্যে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের নাম দেওয়া ‘হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম’ এর জন্য সারা ভূস্বর্গজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।





