Header AD

দেশের মাটিতে ‘হোয়াইটওয়াশ’ লজ্জা, সবচেয়ে বেশি রানে হার ভারতের! গম্ভীরকে অপসারণের দাবিতে তোলপাড় নেটমাধ্যম

ব্রহ্মপুত্রের জলে ডুবল দেশের মাটিতে ভারতের টেস্ট আধিপত্যের গর্ব।  গুয়াহাটি টেস্টের টেস্টের শেষ ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে গেলেন ঋষভ পন্থরা। ইডেনের পর এই টেস্টেও ভরাডুবি হল গম্ভীর বাহিনীর। ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে-নেতৃত্বে সব দিক থেকে পর্যুদস্ত টিম ইন্ডিয়া। শুধু তাই নয়, জেতার জন্য ৫৪৮ রান তাড়া করতে নেমে ৪০৮ রানে হারল ভারত। দেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই সব থেকে বড় ব্যবধানে হার। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০০৪ সালের। সে বার নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৪২ রানে হেরেছিল ভারত। এবার সিরিজ হাতছাড়া তো হলই। সঙ্গে উপহার হিসেবে এক রাশ লজ্জা দিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

শেষদিনে একটা অসম্ভব লক্ষ্য ছিল ভারতের সামনে। শেষদিনে ৫২২ রান যে তারা করতে পারবে না, জানাই ছিল। হাতে ছিল ৮ উইকেট। ম্যাচ বাঁচাতে সারাদিন ধরে টিকে থাকতে হতো। সেটা  তো পারলেনই না, উল্টে লাঞ্ছের আগেই অশায় আত্মসমর্পণ করলেন নীতীশ কুমার রেড্ডিরা। ২৫ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ অনায়াসে জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দল নির্বাচন থেকে বোলিং পরিবর্তন, সবেতেই গন্ডগোল করেছে ভারতের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। টেস্ট জিততে হলে যেখানে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার বোলারদের প্রয়োজন হয় তা কি জানত না টিম ম্যানেজমেন্ট? সারা ম্যাচ বা সিরিজে ছিল না কোনও পরিকল্পনার ছাপ। কাকে কখন বোলিংয়ে আনতে হবে, কী ভাবে ফিল্ডিং সাজাতে হবে কিছুই ঠিক করে উঠতে পারছিলেন না পন্থ। ফলে প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা অনায়াসে ৪৮৯ রান করে গেল। আর সেখানে কিনা প্রথম ইনিংসে ভারতীয় দল গুটিয়ে গেল মাত্র ২০১ রানে। কোনও ব্যাটারের যেন মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতাই দেখা গেল না। দ্বিতীয় ইনিংসেও ছবিটা প্রায় একই। খুব দ্রুত ২৬০ রান বোর্ডে তুলে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। অনেকের মনে হচ্ছিল, তারা হয়তো ডিক্লেয়ার করতে দেরি করছেন। কিন্তু শেষমেশ দেখা গেল কোনও ভুল করেননি টেম্বা বাভুমা। টেস্ট ব্যাটিংয়ের ‘এবিসিডি’ ভুলে গিয়েছেন সকলে। প্রত্যেকেই যেন আউট হওয়ার নিজস্ব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। কোন এক সাইমন হার্মারকে খেলতেই থরহরিকম্প অবস্থা। যেন মনে হচ্ছে মুরলিধরন! কেন ওয়াশিংটন সুন্দর বিভিন্ন ব্যাটিং পজিশনে নামবেন? দেশের টারনিং ট্র্যাকে সিমিং অলরাউন্ডার নীতীশ রেড্ডির কী ভূমিকা? এরকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর অজানা।

২০২৪-এ নিউজিল্যান্ড, ২০২৫-এ দক্ষিণ আফ্রিকা। পরপর দু’বছর দেশের মাটিতে টেস্টে ‘হোয়াইট ওয়াশ’ হল গম্ভীর বাহিনী। গতবছর ভারতের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারল ২-০ ব্যবধানে। তার আগে ১২ বছর ঘরের মাঠে কোনও টেস্ট সিরিজে হারেনি ভারত। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ভারত তিনবার দেশের মাটিতে চুনকাম হয়েছে। তার মধ্যে গম্ভীর আমলেই দু’বার। সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজাও জুটল। গম্ভীর-জমানায় প্রথম একাদশে বার বার বদল করা হয়েছে। কয়েক জন বাদে কারও উপর আস্থা দেখানো হয়নি। গ্রেগ চ্যাপেলের সঙ্গে গম্ভীরের তুলনা করছেন অনেকেই। সমাজ মাধ্যমে ক্রিকেট ভক্তরা সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন ভারতের কোচকে। আরও লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে এখনই তাঁর অপসারণ চাইছেন অনেকেই। গুরু গম্ভীর কি বিদায় ঘণ্টা শুনতে পাচ্ছেন?