শনিবার বিকেলে আমতলায় তৃণমূলের কার্যালয়ে রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (Abhishek Banerjee)-এর সঙ্গে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রাক্তন সিপিএম যুবনেতা (Prateek Ur Rahaman)। তাঁকে পাশে নিয়েই দুই বিরোধী শিবির—বাম ও বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন অভিষেক। এসআইআর থেকে বাম নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব- সব নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
প্রতীক কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন? এই প্রশ্ন উঠতেই অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ” প্রতীক নিজেই আমাকে বলেছে, দল যদি আমাকে টিকিট দেয়ও আমি নেব না।” অভিষেকের কথায়, “ও আমাকে এসে বলেছে, দাদা আমি টিকিট চাই না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আজকের দিনে এমন মনোভাবের রাজনীতিক খুব কম পাওয়া যায়।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতীকের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়েও এদিন সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কাউকে ‘গদ্দার’ তকমা দেওয়া খুব সহজ। সংবাদমাধ্যমে বসে চুক্তির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অথচ প্রতীক স্পষ্ট জানিয়েছে তার কোনও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই—সে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। অভিষেক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, প্রতীক আপনাদের স্তাবকে পরিণত হয়নি তাই খুব গায়ের জ্বালা হচ্ছে সেলিমবাবুদের। আজকালকার দিনে ভালো কর্মী কতজন পাওয়া যায় যার নিজের কোনও চাওয়া পাওয়া নেই। শুধু মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। এই রকম তরুণ প্রজন্ম দলে আসলে আমি সুযোগ করে দেব।” সিপিএমকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন “কার সঙ্গে লড়াইটা করবেন আগে সেটা ঠিক করুন। এতোবড় রেজিমেন্টেড পার্টির কখন হুমায়ুন, কখন নওসাদকে প্রয়োজন পড়ে? তারা আবার তৃণমূলের আইডিওলজি নিয়ে কথা বলে! আমাদের আইডিওলজি মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
তৃণমূলের আদর্শ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি জানতে চান, সিপিএমের আদর্শ আসলে কী? বাংলায় একরকম রাজনীতি আর কেরালায় অন্যরকম অবস্থান—এই দ্বিচারিতারও সমালোচনা করেন তিনি।
এসআইআর (SIR) ইস্যুতেও বামেদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ১২টি রাজ্যে এসআইআর চালু হলেও সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রশ্নে তৃণমূল ছাড়া আর কোনও রাজনৈতিক দল মুখ খোলেনি। কেরালায় সিপিএম ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে দলে যোগদানের আহ্বান জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
সাংবাদিক বৈঠক শেষে রাস্তাতেই প্রতীক উর রহমানের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন অভিষেক। শুধু প্রতীকই নন, তাঁর জেলার আরও ৯ জন নেতা এদিন তৃণমূলে যোগ দেন। আমতলার এই কর্মসূচি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।





