পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIRinBengal) প্রক্রিয়ার প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। খুব শীঘ্রই কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা আপলোড করা হবে। ভোটাররা তাঁদের এপিক নম্বর (ভোটার আইডি নম্বর) ব্যবহার করে অনলাইনে নিজের নাম আছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, প্রথম দফায় মোট ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। খসড়া তালিকায় যেখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০, সেখানে শনিবারের চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪-এ। ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন অর্থাৎ নতুন ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন এবং ফর্ম-৮-এর মাধ্যমে নাম সংশোধন বা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৬৭১ জন।
তবে প্রকাশিত মোট ভোটার সংখ্যার মধ্যে ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ বা অ্যাডজুডিকেটেড হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে নথি যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব বিচারকদের উপর ন্যস্ত হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক দল পদ্ধতিগত ত্রুটির অভিযোগ তুলেছিল। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্বীকার করেছেন যে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তবে তাঁর মতে এত বড় প্রক্রিয়ায় এই ত্রুটি সামান্য। তিনি জানান, যেখানে যেখানে সমস্যা ধরা পড়েছে, সেখানে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৭ অক্টোবর বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ঘোষণা করা হয়। তখন রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। এনুমারেশন পর্বের পর ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন। সেই খসড়া তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়ার আগে পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের অনুপাত ছিল ১০০০: ৯৫৬। চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রথম পর্বের পরেও সেই অনুপাত একই আছে।
এই ৭ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ জনকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ছিলেন ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার, যাঁরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে সংযোগ দেখাতে পারেননি। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ জনকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে শুনানিতে ডাকা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই হয়।
এই বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও কমিশনের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়। ৮২ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে ইআরও ও এইআরওদের সঙ্গে একমত হয় কমিশন এবং সেখান থেকে প্রায় ৮ লক্ষ অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু বাকি ৬০ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের মাধ্যমে ওই ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।
প্রকাশিত তালিকায় ভোটারদের তিনটি ভাগে চিহ্নিত করা হয়েছে—‘অ্যাপ্রুভড’, ‘ডিলিটেড’ এবং ‘বিচারাধীন’। কমিশনের মতে, বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ হলে ভবিষ্যতে আরও কিছু নাম বাদ পড়তে পারে। এদিকে, নতুন ভোটার হিসেবেও আগ্রহ বেড়েছে। ফর্ম-৬ পূরণ করে প্রায় ৯ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে, যাঁদের অধিকাংশই নতুন ভোটার হিসেবে নাম তুলতে চেয়েছেন। পাশাপাশি খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া অনেকেই পুনরায় আবেদন করেছেন।
তবে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের এখনই আতঙ্কিত হয়ার কারণ নেই। তারা নাম বাদ যাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সিইও দপ্তরে আবেদন করতে পারবেন। বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে যারা বৈধ বলে বিবেচিত হবেন তাদের নাম ক্রমশ চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হতে থেকবে। কারও নাম না উঠে থাকলে বা বাদ গেলে ফর্ম ৬ এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। বৈধ বাদ পড়া ভোটারদের নাম নমিনেশনের শেষদিন পর্যন্ত যুক্ত হবে।






