পর্যটকদের কাছে বোলপুরে শান্তিনিকেতন আর সোনাঝুরির হাট এখন সমর্থক। সোনাঝুরি জঙ্গলের মাঝে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। ছুটির দিনগুলোতে এই হাটে তিল ধারনের জায়গা থাকে না। এই অতিরিক্ত লোক সমাগম গাড়ি যাতায়াত সহ একাধিক কারণে ধীরে ধীরে দূষণের কবলে চলে যাচ্ছে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী এলাকা সোনাঝুরির জঙ্গল। এনিয়ে আগেও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে বারবার সোনাঝুরির হাট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। জাতীয় পরিবেশ আদালতে এনিয়ে মামলাও চলছে। হাট বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আদালত। মূলত দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্যই এবার সোনাঝুরি হাট অন্যত্র সরানোর ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার জেলাস্তরের বাণিজ্য সম্মেলন সিনার্জির অনুষ্ঠানে এমনই ইঙ্গিত রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার গলায়। জানালেন, সোনাঝুরির হাটের বিকল্প জায়গার সন্ধান চলছে।
শুক্রবার শান্তিনিকেতনের বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে ‘সিনার্জি’ শুরু হয়েছে। সেখানেই মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “সোনাঝুরি হাট নিয়ে মামলা চলছে। যদি হাট বন্ধ হয়ে যায়, তা তো কাম্য নয়। আমরা বিকল্প জায়গার চিন্তাভাবনা করেছি। বোলপুরেই ওই আদলে হাট তৈরি হবে। তবে আদালত যদি বলে সোনাঝুরিতেই হাট থাকবে, তাহলে থাকবে।”
প্রসঙ্গত সোনাঝুরির জঙ্গলের দূষণ নতুন সমস্যা নয়। অনেক আগে থেকেই এখানকার হাট নিয়ে আপত্তি তুলেছেন পরিবেশ কর্মীরা। আগে সপ্তাহে দুদিন শনি ও রবিবার হাট বসত। তবে পর্যটকদের টানে এখন ফি দিন হাট বসে। ফলে ভিড়ের চাপে দূষণও বেড়েছে। এনিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একাধিক মামলা চলছে। আইনি চাপ ক্রমশ বেড়েছে। এবার তার জেরে খোয়াইয়ের পাশে সোনাঝুরির জঙ্গল থেকে হাট অন্যত্র সরানোর সরকারি ভাবনাচিন্তার কথাই জানালেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।





