Header AD

শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের! ৪৩০টি মডেল স্কুল তৈরির ছাড়পত্র

বাংলায় স্কুল শিক্ষা ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নতুন করে উন্নয়নে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটির নতুন প্রকল্প নেওয়া হল। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের (cabinet meeting) পরে ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও অর্থ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya)।স্কুলের পাঠ্যবই ও সিলেবাসকে আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি সামগ্রিক স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে রাজ্য সরকার স্কুলছুটের পরিমাণ কমিয়ে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের ফলাফলের মানোন্নয়নের পথ দেখিয়েছে। এবার রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প – স্কুল শিক্ষার সম্প্রসারণ (Enhancing School Education)। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (ADB) সহযোগিতায় স্কুল শিক্ষা ক্ষেত্রে আড়াই হাজার কোটি টাকায় এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) জানান, পাঁচ বছরে ৪৩০টি মডেল স্কুল (model school) গড়ে তোলা হবে। তার মধ্যে প্রতিটি ব্লকে একটি করে এবং ৮৭টি অনগ্রসর ব্লকে দুটি করে স্কুল তৈরি হবে। এই স্কুলগুলি হবে মডেল স্কুল। সব স্কুলে বাংলা ও ইংরেজি দুই মাধ্যমেই পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। মনিটরিং ও মূল্যায়নের পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়েছে। এই ৪৩০ মডেল স্কুলগুলিতে (model school) থাকবে স্মার্ট ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, লাইব্রেরি, স্পোর্টসের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ পড়ার সুবিধা থাকবে, জানান ব্রাত্য বসু। এর জন্য যে আড়াই হাজার কোটির প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তার ৭০ শতাংশ দেবে এডিবি (ADB) ও ৩০ শতাংশ রাজ্যের। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কলকাতার এআইডব্লিউসি বুনিয়াদি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক বিভাগে ৭টি নিয়মিত শিক্ষকপদ সৃষ্টি ও পূরণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের (ICDS centre) পরিকাঠামো উন্নয়নেও ২,১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে জানান, রাজ্যের তহবিল থেকে ৬৪৪.৪ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়ন হবে এই প্রকল্পে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে শুরু হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিশুদের উন্নত মানের শিক্ষাসামগ্রী ও পুষ্টি, এবং কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

এর সঙ্গে রাজ্যে নতুন করে ১৫টি পদ সৃষ্টির পাশাপাশি ৫১টি শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বক্রেশ্বর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, মুক্তিমপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পাথরচাপড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফুরফুরা শরিফ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং তারকেশ্বর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্ল্যানারের ৫টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুততর করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ পুর পরিষেবা কমিশনের মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরে মেডিক্যাল অফিসার (জেনারেল) পদে ৪১টি শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নগর স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও জোরদার করতেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ৩টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ঔষধ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাগারে জুনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসারের ১টি, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অ্যাসিস্ট্যান্টের ৫টি এবং জুনিয়র সায়েন্টিফিক অ্যাসিস্ট্যান্টের ৪টি পদ পূরণের প্রস্তাবও এদিন মন্ত্রিসভায় পাশ হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো ও গবেষণা—এই চার ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি আগামী দিনে পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।