Header AD

সুপ্রিম ধমকেও চৈতন্য নেই! নতুন শুল্ক চাপিয়ে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা, আইনি জটিলতায় ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করেছে। আদালতের মতে, জাতীয় জরুরি অবস্থার অজুহাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬–৩ ভোটে এই রায় দেয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ কী ছিল?

রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA) প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। কোন দেশ থেকে কোন পণ্যে কত শুল্ক বসবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কংগ্রেসের। ফলে জাতীয় জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে আরোপিত শুল্ককে আদালত অসাংবিধানিক বলে চিহ্নিত করেছে।

শুল্ক বাবদ আদায় করা অর্থ কি ফেরত দিতে হবে?

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই শুল্ক থেকে প্রায় ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার রাজস্ব এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে আদালত রায়ে সরাসরি অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারক বা সংস্থাগুলিকে পৃথকভাবে মামলা করে টাকা ফেরতের দাবি তুলতে হবে। ইতিমধ্যেই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে। বিষয়টি নিম্ন আদালত বা মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে গড়াতে পারে।

ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপ

রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প আদালতের তীব্র সমালোচনা করে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ‘গ্লোবাল’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। তিনি ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারার আওতায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তবে আইন অনুযায়ী, এই ধারা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর থাকতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণে ধারা ২৩২ এবং ৩০১–এর অধীনে আরোপিত শুল্ক বহাল থাকবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে শুল্ক আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আদালতের রায়ের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা বরাবরই উচ্চ হারের শুল্কের বিরোধী এবং রায়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিতে এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রভাব পড়বে না এবং চুক্তি অপরিবর্তিত থাকবে।

নতুন অধ্যায়ের সূচনা

এই রায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে বিপুল রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। একই সঙ্গে শুল্ক ফেরত নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফলে আমেরিকার বাণিজ্যনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হল।