Header AD

SIR -এ ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট! ‘বিজেপির খেলা শেষ’ প্রতিক্রিয়া অভিষেকের

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা তথ্যের গরমিল নিয়ে চলা বিতর্কের মাঝে সোমবার বড় জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যে অসঙ্গতির কারণে কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ করতে হবে। প্রকাশ্যে ওই সংক্রান্ত তালিকা স্থানীয় দপ্তরে টাঙিয়ে দিতে বলা হয়েছে। শুনানিতে কারও কাছ থেকে নথি জমা নিলে তার রশিদও দিতে হবে, জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

কমিশন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের শুনানির জন্য তলব করা হবে। পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল ৯৪ লক্ষে। সেই তালিকা ধরেই ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যের শাসক দল প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। কোন যুক্তিতে এই ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ্যে আনার দাবিও তুলেছিলেন তাঁরা। বহুদিন আগেই তৃণমূলের তরফে এই প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল সোমবার। সেখানেই জনসমক্ষে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।

শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে আসছিলেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে বিজেপি ও কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ইতিমধ্যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে আরও ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তাঁর অভিযোগ ছিল, বেছে বেছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ও বিরোধী ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালত আরও জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে। প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে। সেখানেই সাধারণ মানুষ নথি জমা দিতে এবং আপত্তি জানাতে পারবেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুনানিতে নথি জমা নিলে তার জন্য আলাদা রশিদ দিতে হবে ভোটারকে। নথির প্রাপ্তিস্বীকার করতে হবে লিখিত ভাবে। এ ছাড়া, পুরো প্রক্রিয়ায় রাজ্যকে যথাযথ পুলিশ মোতায়েন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই নির্দেশ সামনে আসতেই তৃণমূল শিবির উজ্জীবিত। আজ  বিজেপিকে বারাসতের রণসংকল্প সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুংকার, “আজ কোর্টে হারিয়েছি এপ্রিলে ভোটে হারাব…। তৃণমূলের মতে, স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে তারা যে অভিযোগ তুলছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আজ সেটাই প্রমাণিত হল। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলিও এই রায়ের ফলে তথ্যের স্পষ্টতা পাওয়ার আশা রাখছে। বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি যেভাবে নামের তালিকা গোপন রেখে নিঃশব্দে ভোটার ছাঁটাই করার চেষ্টা চলেছিল, তা আদালতের এই নির্দেশে অনেকটাই ধাক্কা খেল। ‘বিজেপি’র SIR এর খেলা শেষ’ বলে বারাসতের সাভাতেই হুঙ্কার দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।