Header AD

আইপ্যাক কাণ্ডে ইডির বিরুদ্ধে FIR-এ স্থগিতাদেশ! ২ সপ্তাহে জবাব তলব শীর্ষ আদালতের

ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত। মামলায় সব পক্ষকে (ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী)  নোটিশ জারি করেছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। দু’সপ্তাহের মধ্যে তাদের আদালতে হলফনামা জমা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ওই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

আইপ্যাক মামলায় বৃহস্পতিবার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ শুরু হয় শুনানি। দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে শুনানি।  আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানায় ইডি। অন্য দিকে ভোটের মুখে এই অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে রাজ্য। শীর্ষ আদালতে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে ইডির আইনজীবী বলেন, “পিএমএলএ আইন মেনেই হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির আন্তঃরাজ্য মামলার তদন্তে অভিযান চালাচ্ছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশবাহিনী নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন। তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলা হয়, যা চুরির সমতুল্য। পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসন একযোগে কাজ করছিল কেন্দ্রীয় সংস্থার মনোবলে আঘাত করার জন্য। বৈধ তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে। এফআইআর দায়ের করা অবশ্যই প্রয়োজন। রাজ্য পুলিশের অধীনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অসম্ভব। তাই সিবিআই তদন্ত চাই।“

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, “কয়লা দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল। এত দিন তাহলে ইডি কী করছিল? ভোটের আগেই কেন তল্লাশি! ইডির হানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আইপ্যাক দফতরে দলের সংবেদনশীল এবং নির্বাচনী তথ্য রয়েছে। তৃণমূল চেয়ারপার্সন হিসেবে দলের গোপনীয় রাজনৈতিক তথ্য রক্ষা করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার এবং কর্তব্য।“ মুখ্যমন্ত্রী একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি নিয়ে গিয়েছেন বলে ইডি যে অভিযোগ করেছে তার বিরোধিতা করে রাজ্য বলে, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। শুধুমাত্র প্রতীক জৈনের ব্যক্তিগত ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে আসা হয়েছে।“ তদন্তে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তার বিরোধিতা করে রাজ্য সরকারের আইনজীবীর যুক্তি, “ইডির পঞ্চনামাতেই বলা হয়েছে তল্লাশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ছিল। তা হলে বাধা দেওযা, চুরি বা জোর করে ঢুকে যাওয়ার অভিযোগ তো পরস্পর বিরোধী।“

দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিচারপতি মিশ্রর পর্যবেক্ষণ, “এই মামলায় অনেক বৃহত্তর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অনেক সংগত প্রশ্নও রয়েছে। এর মীমাংসা না হলে ভবিষ্যতে আইনের শাসন ভেঙে পড়বে। বিভিন্ন রাজ্যে, বিভিন্ন সরকার প্রশাসন চালায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা দেশ জুড়ে তদন্ত করেন। তাদের কোনও দলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। কিন্তু যদি আইন সংগতভাবে তাঁরা তদন্ত করেন তা হলে দলীয় স্বার্থের ঢাল নিয়ে তা ব্যাহত করা যাবে না। তাই সবপক্ষর কাছে এনিয়ে ২ সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করা হল। ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স, শেক্সপিয়র সরণি থানা-সহ যে চারটি এফআইআর দায়ের হল তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। একইসঙ্গে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের গোদরেজ ওয়াটার সাইড বিল্ডিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।”