Header AD
Trending

পাইকপাড়ায় ভোরের বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য, ক্লাবঘরে আগুন! তদন্তে পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড

শনিবার ভোরে কলকাতার পাইকপাড়া এলাকায় পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, একটি পরিত্যক্ত ক্লাবঘরের ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্লাবের টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের একটি ছ’তলা বাড়ির ছাদে গিয়ে পড়ে। ঘটনার পর ক্লাবঘরে আগুনও লেগে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল ও পুলিশ। আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ক্লাবঘরের ভিতরে বোমা মজুত ছিল এবং সেই কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

বিস্ফোরণের জেরে ক্লাবঘরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়েছে। ঘটনাস্থলে বোমা পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের সন্দেহ, এলাকায় প্রোমোটিংয়ের স্বার্থে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভোর প্রায় ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ বিকট শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি দেখেন, পাশের বাড়িতে আগুন জ্বলছে। আশপাশের বাড়ির লোকজন মিলে বালতি বালতি জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই ক্লাবটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। তাই এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

ক্লাবের সেক্রেটারির দাবি, বহুদিন ধরেই ক্লাবটির উপর কিছু মানুষের নজর ছিল এবং সেটি দখল করার চেষ্টা চলছিল। তাঁর অভিযোগ, যাদের স্বার্থ জড়িত, তারাই এই বিস্ফোরণের পিছনে থাকতে পারে। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো এবং সিসি ক্যামেরা লাগানোর দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা। বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার প্রায় ২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় চিৎপুর থানার পুলিশ এবং দমকল।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে উড়ো ইমেল পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। নগরদায়রা আদালত, পাসপোর্ট অফিস এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে ঘিরে সেই হুমকির তদন্ত করছে পুলিশ। এরই মধ্যে পাইকপাড়ার এই বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে যায় বম্ব স্কোয়াডও। অভিযোগ, ক্লাবঘরের ভিতরে আরও কয়েকটি তাজা বোমা থাকতে পারে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা এবং নিরাপত্তার কারণে ক্লাবের আশপাশে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।