১৭ বছর পর দেশে ফিরেই ম্যাজিক দেখালেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারিখ রহমান ( (Tarique Rahman)। দীর্ঘ সময়ের পর বাংলাদেশের মসনদে পুরুষ প্রধানমন্ত্রী বসতে চলেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামাতকে অনেকটা পিছনে ফেলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়ার পথে বিএনপি (BNP)। বাংলাদেশ নির্বাচনে (Bangladesh Election 2026) বিএনপি বড়সড় জয়ের পথে হাঁটতেই দলের সভাপতি তারেক রহমানকে শুভেচ্ছো জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শুক্রবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে তিনি শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করেছেন। লিখেছেন, ‘এই জয় বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশবাসী আপনার নেতৃত্বে আস্থা রাখেন।’ তারেকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক নিয়েও বার্তা দিয়েছেন মোদি।
শুক্রবার সকালেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল স্পষ্ট হয়েছে। তিনশো আসনের মধ্যে ২৯৯ টি আসনে ভোট হয়েছে এবং দুশোর বেশি আসন পেয়ে সরকার গড়ার রাস্তা নিশ্চিত করেছে বিএনপি। দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জিতেছেন তারেক রহমান। এদিন ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, জামাত পরাজিত হয়েছে। ছাত্র সমাজের প্রতিও আস্থা রাখেননি সে দেশের নাগরিকরা। মহিলাদের একটা বড় অংশ সমর্থন করেছে বিএনপিকে। যদিও বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে জামাত-ই-ইসলামির ফলাফলও যথেষ্ট ভালো। দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে জামাত।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকালেই প্রতিবেশী দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজের এক্স হ্যান্ডলে এদিন তিনি বাংলায় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি দেশের নির্ণায়ক শক্তির পথে এগিয়েছে। এর জন্য তারেক রহমানকে আমার তরফে উষ্ণ অভিনন্দন। আপনার জয়েই স্পষ্ট যে বাংলাদেশবাসী আপনার নেতৃত্বে আস্থা রাখছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়নশীলতার পক্ষে ভারত রয়েছে। আশা করি, আগামী দিনে আপনার নেতৃ্ত্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে। যে বহুবিধ বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে, তা উভয়ের স্বার্থে কার্যকরী হবে।’
২০২৪ সালে সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর থেকেই আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে’ রয়েছেন। বারবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি করলেও এ বিষয়ে নয়াদিল্লি একেবারে নিশ্চুপ। এমনকী বাংলাদেশে নির্বাচনী আবহেও দিল্লি থেকে নানা রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন হাসিনা। এসবের পর নির্বাচনে বিএনপি-র জয়ের আভাস পেয়েই মোদির বার্তা কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।





