Header AD

SIR শুনানিতে গরহাজির ভোটারের সংখ্যা ৬ লক্ষের বেশি, কত নাম বাদ পড়বে?

এসআইআর-র (SIR in Bengal) শুনানির জন্য ৭ দিন সময় বাড়ানো হয়েছিল। আগে ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে শুনানির শেষ দিন আজ, ১৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তার আগেই কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে সব শুনানি প্রক্রিয়া। আর কমিশনের সেই পরিসংখ্যানেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief election Commissioner) দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিশ ইস্যু করা সত্ত্বেও প্রায় ৬.২৫ লক্ষ মানুষ শুনানিতে হাজির হননি। কমিশনের অন্দরেই এই বিপুল অনুপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

সিইও দফতর সূত্রে খবর, শেষ দিনের আগেই শুনানির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। শুনানিতে হাজির হননি সবমিলিয়ে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটার। খসড়া তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা গিয়েছিল ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ( Logical Discripency) সংক্রান্ত শুনানিতে যাঁদের ডাকা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যেই এই বিপুল গরহাজিরা। এর মধ্যে সর্বাধিক অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে উত্তর কলকাতায়। ভোটার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় যাচাই প্রক্রিয়াও সেখানে তুলনামূলক জটিল হয়ে উঠেছিল বলে দাবি কমিশনের একাংশের। এই শুনানিতে হাজিরা না দেওয়ায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকায় অসংগতি, প্রয়োজনীয় নথির অভাব বা পরিচয় সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই বহু ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করলে সমস্যা মেটানো যেত। কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ হাজির না হওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির শুনানিতে অনেকেই কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির একটি জমা দিতে পারেননি। বদলে পেপার কাটিং, প্যান কার্ডের মতো তথ্য জমা দিয়েছেন। তাই তাঁদের নাম বাদ যেতে পারে।

তবে কমিশন অবশ্য স্পষ্ট করেছে, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শিয়ে নোটিশ পাঠানো হবে। প্রয়োজনে পুনরায় আবেদন করার সুযোগও থাকবে। তবে এত বড় সংখ্যক গরহাজিরা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক চাপ যে বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই৷ ভোটের মুখে এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক মহলেও কৌতূহল বাড়িয়েছে। উত্তর কলকাতায় কেন এত বেশি অনুপস্থিতি, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।