Header AD

ছিল না ‘ফায়ার ক্লিয়ারেন্স’!’আনন্দপুরের ঘটনায় FIR করে তদন্ত হবে’,জানালেন দমকলমন্ত্রী

রবিবার গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে একটি নামী খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থার মোমোর গুদাম। অগ্নিকাণ্ডের দেড় দিন পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। এদিন এলাকা পরিদর্শনের পর দমকলের ডিজি স্বীকার করে নেন যে, কারখানাটির কোনও বৈধ অনুমোদন বা ‘ফায়ার ক্লিয়ারেন্স’ ছিল না। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দমকল মন্ত্রীর বক্তব্য,”এফআইআর দায়ের করে তদন্ত হবে।”

এদিকে আনন্দপুরে এই ঘটনায় ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। তবে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কাই করা হচ্ছে। জনবহুল এলাকায় কীভাবে দিনের পর দিন এমন অনুমোদনহীন গুদাম চলছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড়ো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখন নিখোঁজ ২৫ জন, যার মধ্যে ১৩ জন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি ভস্মীভূত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্বজনহারা উদ্বিগ্ন পরিবার গুলির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। দমকল আধিকারিকরা তাঁকে গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করেন।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজিত বসু জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই দমকলের ১২টি ইঞ্জিন পৌঁছে যায়, পরে ইঞ্জিন আরও বাড়ানো হয়। সারারাত কাজ করেছেন দমকল কর্মীরা। গতকাল ২৬ জানুয়ারি থাকায় অনেক জায়গায় ছুটি ছিল। কিন্তু সেসব বাতিল করেই দমকল বিভাগ যথেষ্ট পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে আগুন নিভিয়েছে। কারখানার দরজা, জানলা কেটে কেটে উদ্ধার করা হয়েছে সকলকে। তবে এখনও কয়েকজন নিখোঁজ। আমরা সব খবর রাখছি।”

এদিকে দমকলের অনুমোদন ছাড়া গুদাম কীভাবে চলছিল এতদিন ধরে? এনিয়ে সুজিত বসুর বক্তব্য, “আইনগতভাবে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, আমরা তা নিচ্ছি। সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে। এফআইআর দায়ের করে তদন্ত হবে।”

আনন্দপুরের প্রত্যন্ত এলাকা নাজিরাবাদ। সেখানে ছিল নামী ফুড জয়েন্টের গুদাম, যা দমকল বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। গত রবিবার গভীর রাতে সেখানেই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে। এই গোডাউনে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার ঠিকমতো দেখা মেলেনি। মূল দরজা অত্যন্ত ছোট হওয়ায় কারনে আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে এই প্রবেশদ্বার পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি ভেতরে থাকা কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা। গোডাউনে যথেষ্ট দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিনের ছাদ ভেঙে পড়ায় ভেতরে ঢুকতে সমস্যা হয়েছে দমকল কর্মীদের। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ।ওই কংক্রিট ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। চলছে পকেট ফায়ার নেভানোর কাজ। এদিন সকাল থেকে কুলিং প্রসেসও শুরু হয়েছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু হবে।

এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তৃণমূলের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ, বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন দমকল মন্ত্রী সুজিত ঘোষ পৌঁছান। তাঁকে এলাকায় ঢুকতে দেখে বিজেপির তরফে মন্ত্রীর গাড়ির দুপাশে রাস্তার পাশে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। সেইসব উপেক্ষা করেই স্বজনহারা মানুষজনের কাছে পৌঁছে যান মন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই মরণফাঁদ চলছিল, এখন সেটাই তদন্তের মূল বিষয়।