এস আই আর আতঙ্কে রাজ্যে মৃত্যু! উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ- একই দিনে রাজ্যের এই তিন জেলায় তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এস আই আরকে কেন্দ্র করে। দুজন আত্মহত্যা করেছেন। এক জন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। পরিবারের দাবি জানাচ্ছেন, প্রত্যেকেরই মৃত্যুর কারণ এসআইআর আতঙ্ক।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জের মামুদপুরের ১০৩ নম্বর বুথের বাসিন্দা ছোয়েদ শেখ। তাঁর পুত্র আবদুর রহমান এবং কন্যা আনজুরা বিবিকে এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। পরিবারের দাবি, সেই আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধ ছোয়েদ শেখের। আব্দুর কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি এসআইআরের শুনানিতে আসতে পারবেন না জেনে ছোয়েদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। আতঙ্কে অসুস্থ হয়েছে পড়েন ৬২ বছরের বৃদ্ধ। এরপর হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে হিঙ্গলগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। মৃতের কন্যার দাবি, “আমার ও আমার ভাইয়ের শুনানির নোটিস এসেছে। আমার ভাই ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সোমবার আমাদের শুনানির তারিখ ছিল। ভাই না আসতে পারায় বাবা বেশ কয়েক দিন ধরে খুবই চিন্তা করছিলেন। আমরা বাবাকে বুঝিয়েছিলাম। এসআইআরের আতঙ্কে বাবার মৃত্যু হল।”
অন্য দিকে, স্ত্রীর এসআইআর শুনানিতে নাম আসায় আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নদিয়ার বাসিন্দা ফিজুর শেখ। নামের গরমিল থাকায় দুদিন আগেই হিয়ারিং নোটিশ স্ত্রীর নামে। আর তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্বামী। পরিবারের দাবি, ফিজুরের মনে হয়, তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। রবিবার গভীর রাতে নিজের শোয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানা এলাকার ফিজুর খান। তৎক্ষণাৎ ৫৪ বছরের ওই প্রৌঢ়কে উদ্ধার করে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সেই একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে।এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী জনি শেখ। পরিবারের দাবি , এসআইআর আতঙ্কেই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, ট্রেনে জল বিক্রি করতেন জনি। বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তিনি মাঝেমাঝে মদ্যপান করতেন। রেলের জমিতে তাঁরা বসবাস করতেন। তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। মা কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকেন। রামপুরহাটে মামার মেয়ের বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করতেন জনি। রবিবার দুপুরে তিনি ভাত খেয়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। রাতেও দরজা না খোলায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বন্ধ দরজা ভেঙে জনিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন এলাকার বাসিন্দারা। পরিবারের দাবি, ওই ওয়ার্ড ১৭১ জনকে এসআইআর শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেই আতঙ্কে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন জনি। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছায় এবং দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।





