Header AD
Trending

স্মার্ট আলোয় ঝলমল করবে তিলোত্তমা! ডিজিটাল নজরদারিতে শহরের স্ট্রিট লাইটের পরিকল্পনা পুরসভার

তিলোত্তমা কলকাতাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। শহরের রাস্তায় স্ট্রিট লাইট কখন জ্বলবে বা নিভবে, তা এবার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে। এই অত্যাধুনিক উদ্যোগের জন্য দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুরসভার মেয়র পারিষদ (আলো) সন্দীপ রঞ্জন বক্সি এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক আলোচনার স্তরে রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। টিসিএস (Tata Consultancy Services) একটি প্রস্তাব দিয়েছে, সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি সংস্থার সঙ্গেও কথাবার্তা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।

কীভাবে কাজ করবে এই স্মার্ট ব্যবস্থা? পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা শহরকে চারটি জোনে ভাগ করা হবে—উত্তর-মধ্য, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম। একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে এই সমস্ত এলাকার স্ট্রিট লাইট পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় কোনও এলাকায় আলো নষ্ট হলেই তা সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেমে ধরা পড়বে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। বর্তমানে কোথাও আলো খারাপ হলে নাগরিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা মেরামতির কাজ শুরু হয়, ফলে অনেক সময় নষ্ট হয়। ডিজিটাল মনিটরিং চালু হলে সেই সমস্যার বড়সড় সমাধান হবে বলে আশা পুরসভার।

প্রাথমিকভাবে আলিপুর ও কালীঘাট এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার। টিসিএস-এর আইওটি (IoT) ভিত্তিক স্মার্ট সলিউশন ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে। প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে পুরো কলকাতায় তা চালু করা হবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই চণ্ডীগড় (Chandigarh) ও নয়ডায় (Noida)-তে সফলভাবে কার্যকর হয়েছে।
বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ৩ লক্ষ লাইট পোস্ট রয়েছে। এর মধ্যে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার আলো বিভিন্ন সময়ে অকেজো থাকে। ফলে বালিগঞ্জ, পিকনিক গার্ডেন, বন্দর এলাকা, দমদম ও ইএম বাইপাসের কিছু অংশ প্রায়শই অন্ধকারে ডুবে যায়। স্মার্ট লাইট সিস্টেম চালু হলে সেই সমস্যার সমাধান অনেকাংশে সহজ হবে বলে মনে করছে কলকাতা পুরসভা।

নতুন স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে শহরের ‘ডার্ক জোন’ দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং কম সময়ে আলো ফিরিয়ে আনা যাবে। ফলে একদিকে যেমন নাগরিক নিরাপত্তা বাড়বে, তেমনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে পুরসভার আর্থিক সাশ্রয়ও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।