Header AD

অন্ধ্রপ্রদেশে গুলির লড়াইয়ে খতম শীর্ষ মাওনেতা মাদভি হিদমা, বড় স্বস্তি নিরাপত্তাবাহিনীর

গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হল কুখ্যাত মাওবাদী নেতা মাদভি হিদমার। যার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ৫০ লক্ষ টাকা। অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়-সহ একাধিক রাজ্যে নিরাপত্তাবাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের উপর অন্তত ২৬টির বেশি নাশকতার মাস্টারমাইন্ড ছিল এই মাও-নেতা। অবশেষে তাঁর মৃত্যু নিরাপত্তাবাহিনীর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। মাওবাদী মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে নিঃসন্দেহে এ এক বড় সাফল্য ।  

অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের ডিজি হরিশ কুমার গুপ্তা জানান, গোপন সূত্রে মাওবাদী ডেরার সন্ধান পেয়ে নিরাপত্তাবাহিনী মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং তেলেঙ্গানা রাজ্যের সীমানাবর্তী জঙ্গল এলাকায়  অভিযান শুরু করে। এই এলাকাটি অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সিতারামারাজু জেলায় অবস্থিত। গোলাগুলিতে একজন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-সহ এখনও পর্যন্ত ৬ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গোটা এলাকা ঘিরে চলছে তল্লাশি অভিযান। সূত্রের খবর, মৃত মাওবাদীদের মধ্যে এই শীর্ষ নেতাই হলেন একাধিক নাশকতার মাস্টারমাইন্ড মাদভি হিদমা।

হিদমার জন্ম ১৯৮১ সালে তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের সুকমায় । শুরুতে পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির একটি ব্যাটালিয়নের প্রধান ছিলেন তিনি। একইসঙ্গে সিপিআই মাওবাদীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। বস্তার অঞ্চলে এই কমিটির একমাত্র উপজাতি সদস্য ছিলেন হিদমা। ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ায় হামলয় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। ২০১৩ সালে ঝিরাম ঘাটিতে হামলায় শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ ২৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে সুকমা-বিজাপুরে হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ২২ জওয়ানের। এই প্রত্যেকটি হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই মাও নেতা। পাশাপশি তাঁর স্ত্রীও ছিলেন মাওবাদী কমান্ডার। যদিও এর আগেই নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদকে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে বলে ডেডলাইন দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । সেই লক্ষ্যে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে । যদিও গত কয়েক মাসে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যে আত্মসমর্পণ করেন কয়েকশো মাওবাদী।