দোল উৎসবের পর থেকেই তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) অধ্যুষিত ৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ প্রচার কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত ‘তফসিলি সংলাপ’ সভায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, প্রতিটি এলাকায় বিশেষ প্রচারের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি গাড়িতে তিন থেকে চারজন কর্মী থাকবেন, যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কাজ ও প্রকল্পের তথ্য পৌঁছে দেবেন। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—শুধু জয়ের আত্মবিশ্বাসে ভরসা না করে ব্যবধান আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। প্রচারের গাড়ি না এলেও অপেক্ষা না করে নিজের উদ্যোগে মানুষের কাছে পৌঁছনোর নির্দেশ দেন তিনি।
সভা থেকে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক দাবি করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে তফসিলি ও আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বেশি। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ এই নিরিখে শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন, সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তফসিলিদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দাবি—তাদের সরকার তফসিলি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অনুদান গত পাঁচ বছরে ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০০ টাকায় পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজেপির রথযাত্রা নিয়েও কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘৭০ জন বিধায়ক নিয়েই রথে চড়ে ঘুরছে, তাহলে বেশি আসন পেলে কী হবে ভাবুন! এদের তো মাটিতে পা পড়বে না।’ এরপর তিনি বলেন,’ নির্দিষ্ট ধর্মীয় সময় ছাড়া রথযাত্রা আয়োজন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে রথযাত্রা হয় বলে জানি। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে রথযাত্রা আবার কী।’ রথযাত্রায় বিজেপি নেতারা এলে তাদের মাছ-মাংস এমনকি সাধ্যমতো মিষ্টি খাওয়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়া গেলে কেন্দ্রের ক্ষমতার সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে।




