সারা বাংলা জুড়ে এসআইআরের শুনানি নিয়ে বারবার হেনস্তার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রী থেকে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তেমনিই আজ, শনিবার বিকেলে তৃণমূলের তরফে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে ডেপুটেশন দেওয়া হল। তৃণমূলের ৫ জনের প্রতিনিধি দল এদিন কমিশনে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পার্থ ভৌমিক, সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও পৌরপিতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে কমিশনকে তোপ দেগে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এসআইআর শুনানি ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আজ এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও হিয়ারিং নিয়ে বাংলায় মানুষ হয়রান হচ্ছে। মানুষ কীভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, আপনারা দেখছেন। এই গভর্নমেন্ট এখন ফর দ্য টর্চার, ফর দ্য হ্যারাসমেন্ট, ফর দ্য কিলিং। আজ আমরা মানুষের হেনস্তার প্রতিবাদ করতে এসেছিলাম। আমাদের দলনেত্রী এর মধ্যে কমিশনকে একাধিক চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু বোবা, কালা কমিশন কিছুই করছে না। এরা শুধু হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন একটা করে নির্দেশ দিচ্ছে। আজ এটা৷ কাল সেটা। আজ যেটা দিচ্ছে, কাল সেটা বদলে যাচ্ছে। বিএলও, ইআরও লেভেলেও কেউ বুঝতে পারছে না কী করতে হবে?”এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে একই সুরে সাংসদ মহুয়া মৈত্র নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমে বলল, ২০০২-এ নাম থাকলে তাঁর কিছু লাগবে না। দেখা গেল অ্যানম্যাপড ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষ। বলা হল, এঁদের শুনানিতে ডাকা হবে। তারপর আবার কোনও এক লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে আরও প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে ডাকা হল শুনানিতে। আমাদের প্রশ্ন, যে গতিতে শুনানি চলছে, তাতে এঁদের সবার শুনানি হবে তো? যদি না হয়, তাহলে কি এঁদের নাম কাটা যাবে?” কমিশনের সফটওয়্যারের ভুলে যাঁদের নামে সমস্যা হয়েছে, তাঁরা কেন বাদ যাবে, প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল প্রতিনিধিরা। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আপনারা যে ডকুমেন্ট নিয়ে যাচ্ছেন তার রশিদ দিচ্ছেন না। যে নথি দিয়েছে তার কাছে প্রমান কি রইল? এটা হচ্ছেটা কী? আমরা এটাই জানতে চাইছি। আরপি এক্ট লংঘন হচ্ছে। কেন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন ? আমরা কিন্তু এটা মেনে নেব না। আপনারা এটা ঠিক করুন। বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না।” এখন দেখার বিষয় হল তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলের সমস্ত দাবি নির্বাচন কমিশন কতটা মান্যতা দেয়।





