Header AD

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়বে সংযুক্ত মোর্চা! বিমানকে দেওয়া নওশাদের চিঠি উস্কে দিচ্ছে জল্পনা

২০২১ সালের বিধানসভা (Assembly) নির্বাচনে বামফ্রন্ট (Left Front) , কংগ্রেস (Congress) ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) একজোট হয়ে লড়াই করেছিল। সংযুক্ত মোর্চার নাম দিয়ে লড়াই করে অবশ্য এই জোট পর্যুদস্ত হয়েছিল। কেবলমাত্র ভাঙড় (vangor) আসনে নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui) ছাড়া, সংযুক্ত মোর্চার আর কোনও প্রার্থী জিততে পারেননি। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর আর এই তিন রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে ভোটযুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়নি। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আবার উস্কে উঠেছে সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি পাঠিয়েছেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) একমাত্র বিধায়ক তথা সংগঠনের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ বিধানসভা নির্বাচন। তার মাস ছয়েক আগে এই চিঠি বাংলা রাজনীতিতে যথেষ্ট ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে বিমানকে ইমেল করে চিঠিটি দিয়েছেন নওশাদ। চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করে নিলেও সেই চিঠিতে কোন বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, তা জানাতে চাননি ভাঙড়ের বিধায়ক। তবে সূত্রের খবর, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করতে চেয়ে এই চিঠিটি দিয়েছেন তিনি। যদিও ইমেল মারফত পাঠানো চিঠিটি হাতে পাননি বিমান। তা জানতে পেরে সেপ্টেম্বর মাসে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজফ্‌ফর আহমেদ ভবনে গিয়ে বিমানের সঙ্গে দেখা করে চিঠিটি দিতে চান নওশাদ। সেই সঙ্গে আইএসএফের রাজনৈতিক ভাবনার কথা মৌখিক ভাবে জানিয়ে আসবেন তিনি। আইএসএফ নেতৃত্বের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বামফ্রন্টের পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গেও ফের জোটে আগ্রহী তারা। তাই বিমানের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকেও লিখিত জোটবার্তা পাঠাতে চান নওশাদ।রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে কংগ্রেস ও আইএসএফের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় শূন্য হয়ে গেলেও, মালদহ মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের সংখ্যালঘু মানুষদের কাছে গ্রহণযোগ্য কংগ্রেস। লোকসভা ভোটে তার প্রমাণও মিলেছে। বাংলার রাজনীতিবিদদের ধারণা, ফের সংযুক্ত মোর্চা গঠিত হলে তাদের প্রধান লক্ষ্য হবে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক। মালদহ দক্ষিণ আসন জেতার পাশাপাশি, রায়গঞ্জ, মালদা উত্তর, মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর ও জঙ্গিপুর আসনে ভালো ভোট পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। সে ভাবেই, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলির মতো জেলার সংখ্যালঘুদের মধ্যে বেশ প্রভাব রয়েছে ফুরফুরা শরিফের, যার উত্তরাধিকারী নওশাদ। একক ভাবে লড়াই করে লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফল হয়েছিল আইএসএফের। সেই সুবাদে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে একজোট হয়ে লড়াই করার প্রথম পদক্ষেপ করেছে ভাইজানের দল।