প্রতিভা চিনতে ভুল করেননি রাহুল দ্রাবিড়। ট্রায়ালে নজরে পড়া মাত্রই ১৩ বছরের এক কিশোরকে আইপিএল নিলাম থেকে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সেই কিশোর—বিহারের বৈভব সূর্যবংশী এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বৈভব এখন শুধু ভবিষ্যৎ ভারতীয় ক্রিকেটের বড় নামই নয়, কর্পোরেট দুনিয়ারও নতুন আকর্ষণ।
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে থাকাকালীন বৈভবকে কার্যত আগলে রেখেছিলেন দ্রাবিড়। বহুজাতিক সংস্থাগুলির আগ্রহ থাকলেও তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ বৈভবের কাছাকাছি যেতে পারেনি। এমনকি দলের স্পনসর সংস্থাগুলিও বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করতে পারেনি এই কিশোরকে। দ্রাবিড়ের স্পষ্ট বার্তা ছিল—এই প্রতিভাকে এখনই বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা যাবে না। ক্রিকেটটাই হোক একমাত্র লক্ষ্য।
কিন্তু সময় বদলেছে। রাজস্থানে দ্রাবিড় অধ্যায় শেষ। বৈভবও পেরিয়ে এসেছে আইপিএলের গণ্ডি। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিয়মিত সদস্য সে এখন। এই স্তরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বৈভব। সদ্য শেষ হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তার ব্যাটেই ভর করে ট্রফি জিতেছে ভারত। ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস কার্যত একাই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছিল। এশিয়া কাপ থেকেই নজর কেড়েছিল বৈভব। বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। খাদ্য-পানীয়, ই-কমার্স, ক্রীড়া সরঞ্জাম থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর পানীয় প্রস্তুতকারী—কমপক্ষে ১৫টি সংস্থা চাইছে বৈভবকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করতে। দ্রাবিড়ের কড়া নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এখন বৈভবের কাছে পৌঁছনোও অনেক সহজ।
বিশ্বকাপ জিতে রবিবার দেশে ফিরেছে ভারতীয় দল। আর তার পরদিনই একাধিক সংবাদপত্রে দেখা গেল বৈভবকে—সংবাদে নয়, সাক্ষাৎকারে নয়—একটি পরিচিত স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বিজ্ঞাপনে। হাতে ব্যাট, মুখে আত্মবিশ্বাসী হাসি। মাত্র ১৪ বছরেই বহুজাতিক সংস্থার মুখ বৈভব সূর্যবংশী। বিজ্ঞাপন জগতের মতে, এই চুক্তি হঠাৎ নয়। আগেই কথা পাকা ছিল, শুধু সঠিক মুহূর্তের অপেক্ষা। এই মুহূর্তে বৈভবের মতো সম্ভাবনাময় নতুন মুখ ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে আর নেই। তবে নাবালক হওয়ায় সব ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপনে তাকে ব্যবহার করা যাবে না, সেই নিয়ম মানতেই হবে।
তুলনা টানা হচ্ছে শচীন তেন্ডুল্করের সঙ্গেও। শচীনের প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল ১৬ বছর বয়সে, তাও কপিল দেবের সঙ্গে। বৈভব একাই সামনে। যদিও বিজ্ঞাপন দুনিয়ার অভিজ্ঞরা উচ্ছ্বসিত হলেও সতর্ক। তাঁদের মতে, এত কম বয়সে খ্যাতি ও অর্থ মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই চুক্তিও সাধারণত স্বল্পমেয়াদি। কারণ ঝুঁকি থাকছেই। বিনোদ কাম্বলি বা পৃথ্বী শ-এর উদাহরণ এখনও টাটকা।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভারসাম্য। ক্রিকেট ও ব্যক্তিগত জীবন—দু’দিক সামলাতে হবে বৈভবকে। আগামী অন্তত ২০ বছর ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দু’-তিন বছরের সাফল্য যথেষ্ট নয়, দরকার ধারাবাহিকতা। সেই দায়িত্ব অনেকটাই তার অভিভাবকদের কাঁধে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে একাই ম্যাচ বের করে নিয়েছিল বৈভব। বিজ্ঞাপন নির্মাতারাও সম্ভবত ভাবছেন—এখানেও একাই পারবে সে। পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির এক কিশোরকে সামনে রেখে নতুন বাজি ধরতে প্রস্তুত কর্পোরেট দুনিয়া।





