“আজ গণতন্ত্র বিপন্ন। কেন্দ্রে বিজেপির শাসনকালে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে কাঁপছে মানুষ। নাগরিকত্ব নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছে তাঁরা দেশের লজ্জা।” সংবিধান দিবসে বিজেপিকে আক্রমণ করে তোপ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা দেশের গণতন্ত্রকে যেকোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে। সংবিধান দিবসে রচয়িতা বিআর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই সংবিধানকে হাতে নিয়ে কমিশনকে ‘অমানবিক’ বলে তোপ দাগলেন তিনি। সেইসঙ্গে এদিন এক্স হ্যান্ডেলে বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

এদিন এসআইআর ইস্যুতে বিএলওদের পাশে দাঁড়িয়ে ফের একবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সিইও দপ্তরকে নিশানা করে বলেন, “বিএলওদের দাবি ন্যায্য, ৪৮ ঘণ্টা বসে থাকতে হল শুধু কথা বলার জন্য!এত অহংকার কীসের? মনে রাখবেন চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকে না। ২৯ এর আগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পতন হতে পারে।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, “কাজের চাপে বিএলও-রা মারা যাচ্ছেন । তাঁরা তাঁদের অভিযোগ জানাবেন না? উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটেও বিএলওরা মারা গিয়েছেন কাজের চাপে। কী দরকার ছিল এত তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করার?” সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি বলেছি আত্মহত্যা করবেন না। জীবন খুবই অমূল্য।” এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার ঠাকুরনগর থেকে ফেরার পথে বিক্ষোভ দেখে থমকে যাওয়ার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। সেই ঘটনার কথাও এদিন তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “আমি কাল গাড়িতে আসার সময় কিছু লোক কথা বলতে চাইছিলেন। আমি তা শুনলাম। আমার ১০ মিনিট সময় লেগেছিল। সঙ্গে সঙ্গে যা যা প্রয়োজন সব করে দিলাম। কিন্তু বিএলওদের কথা শুনতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে গেল?”
বিজেপি শাসনকালে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে! এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, ” দেশে একপক্ষ চলছে, কোথায় নিরপেক্ষতা?” সেই সঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। স্বাধীনতার এত বছর পর নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। এতে আমরা স্তম্ভিত, দুঃখিত, মর্মাহত এবং শোকাহত।” বাংলাকে অপমান করা নিয়েও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, যে বাংলা দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, নব জাগরণ এনেছে, সেই বাংলার মাটিকে আজ অপমান করা হচ্ছে। “বাংলা ভারতের অংশ, তা কেন্দ্র ভুলে গিয়েছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।”
প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধান ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গৃহীত হয়েছিল। ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়। এই দিনটি ‘সংবিধান দিবস’ বা ‘জাতীয় আইন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। বিআর আম্বেদকর সংবিধান রচনা করেছিলেন। এদিন রেড রোডে আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে মুখ্যমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করে শোণান। সেই সঙ্গে তাঁর বার্তা, বাবা সাহেব আম্বেদকর যে সংবিধান তৈরি করে গিয়েছেন আমরা সেটাই মেনে চলব। বিজেপির তৈরি কোনও সংবিধান নয়। যে কোনও মূল্যে সংবিধানকে রক্ষা করতে হবে। “





