ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ফের ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিকে হাতিয়ার করছে বিজেপি। শনিবার মালদহে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) গলায় হিন্দুত্বের সুর। হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপারকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন মা কালী ও মা কামাখ্যার যোগসূত্র হিসেবে। মালদহের মঞ্চ থেকেও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন মোদি । বহরমপুরের সভা থেকে তারই উত্তরে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের তীব্র বিরোধিতা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দেশের বিজেপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর সপাট প্রশ্ন, “যে মঞ্চ থেকে মমতাকে গালিগালাজ দিচ্ছেন, কে বানিয়েছে? হিন্দু না মুসলমান?”
উল্লেখ্য শনিবার বঙ্গে এসে বেলডাঙা অশান্তির নেপথ্যে সরসারি তৃণমূলকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের গুন্ডারাই একাজ করেছে। বহরমপুরের সভা থেকে বেলডাঙা নিয়ে পালটা বিজেপিকেই দুষলেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, “বেলডাঙার ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছেন বিজেপির বাবুরা। আর একজন নতুন গদ্দার তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে তাদের মদত ও ইন্ধন রয়েছে। তবে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। তাতে লাভ বিজেপিরই। আপনারা শান্ত থাকুন।”
এদিনের সভা থেকে বিজেপির সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতির বিরোধিতায় সুর চড়ান অভিষেক। বলেন, “রাস্তায় বেরিয়ে জলতেষ্টা পেলে যে জল কিনে খান, জানতে চান সেই দোকান হিন্দু না মুসলমানের? বাড়িতে আগুন লাগলে যে দমকল বাহিনী আসে, আগুন নিভিয়ে দেয়, জানতে চেয়েছেন তাঁরা হিন্দু না মুসলিম? আজ যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালিগালাজ করে গেলেন, সেই মঞ্চটা কে বানিয়েছে? হিন্দু না মুসলিম?”
সভা থেকে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরি ও তৃণমূলের সাসপেন্ড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নাম না নিয়ে অভিষেকের খোঁচা, বলেন, “একটা গদ্দারকে, মিরজাফর, বিজেপির ডামি প্রার্থীকে বহরমপুর থেকে বিদায় দিয়েছেন। আরেকটা গজিয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে তার ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে যারা লেলিয়ে দেয়, তাঁদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে। বাবরি নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, ২০১৯ সালে সেই বিজেপির প্রার্থী ছিল।”





