আজ বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হল বিধানসভায়। আর সেই অধিবেশনে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের ভাষণের উপর বক্তৃতায় বাদানুবাদে জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিজের বক্তৃতায় অনুপ্রবেশের কথা তোলায় SIR ও ভিনরাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তার কথা উল্লেখ করে তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”একটা রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন? ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে ভোট হয়েছে। তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন।” এরপর বিরোধী দলনেতাকে তাঁর প্রশ্ন, ভিন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তার সময় কেন চুপ করে থাকেন?
এসআইআর নিয়ে বিরোধী দলনেতা আলোচনা শুরু করলে তার সম্মতি দেননি স্পিকার। এসআইআর নিয়ে বিধানসভায় আলোচনায় সম্মতি দেননি স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই বিধানসভায় আলোচনা হবে না। রাজ্যপালের ভাষণ নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। এরপরই অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারকে খোঁচা দেন শুভেন্দু। বলেন, “অনুপ্রবেশ সমস্যায় ডেমোগ্রাফি বদল হচ্ছে। ৮ বার স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি দিয়েছেন সীমান্তে বেড়া দিতে জমি চেয়ে। কাঁটাতার দেওয়া যায়নি জমি সমস্যার কারণে।”
পরে রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপন বক্তৃতা করতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী পালটা জবাব দেন শুভেন্দুকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধু অনুপ্রবেশকারী কথাটাই বিরোধীদের মাথায় ঢুকেছে। আর কিছু নেই মাথায়। অন্য রাজ্যে কেন বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে? মারধর, নিগ্রহ, খুন চলছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, রাজস্থান, গুজরাট, সর্বত্রই এই অত্যাচার চলছে।“ এরপর তাঁর প্রশ্ন, “বাঙালিদের যখন নিগ্রহ করা হয় তখন আপনারা কোথায় থাকেন? কেন প্রতিবাদ করেন না?” মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন, “আগে বাইরে থেকে কেউ এলে রেল এভিয়েশন বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য শেয়ার করত রাজ্যকে। কিন্তু গত কয়েক বছর তা করা হয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বারবার বলার পরেও কথা শোনা হচ্ছে না। আর সীমান্তে জমির কথা বলছেন! অনেক প্রকল্পে অনেক জমি দিয়েছি তার কি কাজ হয়েছে সেটা আগে বলুন। বিএসএফকেও তো আগে জমি দিয়েছি।” কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিভিন্ন অভিযান ইস্যুতে সরব হয়ে শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ”যতই এজেন্সি লাগান বাংলার মানুষ আপনাদের ধিক্কার জানায়। ডবল ইঞ্জিন সরকারে দিকে তাকিয়ে দেখুন, দিল্লির দিকে তাকিয়ে দেখুন। আপনারা জিরো ছিলেন, জিরোই থাকবেন, বাংলা হিরো ছিল, হিরো থাকবে।” প্রসঙ্গত, আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কম চর্চা হয়নি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন এই বিপদের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হননি? সেই নিয়েও এদিন জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “ওইদিন ২৬ জানুয়ারি ছিল। আগে থেকেই অনেক কর্মসূচি থাকে। সারাদিন ব্যস্ততা থাকে। রাতে রাজ্যপালের ওখানে কর্মসূচি থাকে। আমি না গেলেও অরূপ (মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস) আর ববিকে ( মেয়র ফিরহাদ হাকিম) পাঠিয়েছিলাম। স্থানীয় বিধায়ক এবং অন্যরা গিয়েছেন। পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। শুনুন আমাদের নিন্দা করে কিছু হবে না। আমরা আর্থিক বঞ্চনার পরেও কী কাজ করছি সেটা দেখুন। এক টাকাও কোনও প্রকল্পে দেন না আবার বড় বড় কথা বলেন।“ সবশেষে বিরোধীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সবাই ভালো থাকবেন এবং এটাও জেনে রাখবেন আগামী ভোটে অনেক আসন হারাবেন আপনারা।”





