সম্প্রতি বিধানসভায় পেশ হয়েছে ২০২৬ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেট। সেখানে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকারদের জন্য নতুন যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য। তবে ঘোষণা ছিল আগস্ট থেকে চালু হবে এই নতুন প্রকল্প। কিন্তু অগাস্ট নয়, এবার এপ্রিল থেকেই মিলবে যুবসাথী ভাতা। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই প্রকল্প সংক্রান্ত বড় ঘোষণাটি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি জানান, যুবসাথী প্রকল্প ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানালেন—কারা এই ভাতা পাবেন, কী শর্তে মিলবে টাকা এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তার সম্পূর্ণ খুঁটিনাটি।
কিছুদিন আগেই অন্তর্বর্তী বাজেটে শিক্ষিত বেকারদের জন্য এই নতুন প্রকল্প চালুর কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।এই প্রকল্পে মাধ্যমিক পাশের পর ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকাররা, প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে পাবেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুরুতে আগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা এগিয়ে এনে এপ্রিল থেকেই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, যারা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কোনও না কোনও ভাতা পাচ্ছেন তারাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। অর্থাৎ যারা ঐক্যশ্রী, শিক্ষাশ্রীর,মেধাশ্রী বা স্মার্টকার্ড বৃত্তি মতো স্ক্লারশিপ পাচ্ছেন তারাও যুবসাথীতে আবেদন করতে পারবেন। তবে স্কলারশিপ ছাড়া রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেলে যুবসাথী পাওয়া যাবে না। প্রাথমিকভাবে ৫ বছর ধরে প্রতি মাসে এই ভাতা মিলবে। পাঁচ বছর পরেও কেউ যদি কর্মহীন থাকেন, তাহলে পরিস্থিতি রিভিউ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কীভাবে আবেদন করবেন? এদিন সেবিষয়েও বিস্তারিত জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, আবেদনের গ্রহণের জন্য দুয়ারে সরকার ধাঁচের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতেই ক্যাম্প করা হবে। চলতি মাসের ১৫ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ক্যাম্প হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন সেখানে। প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ক্যাম্পে গেলেই সেখানে আবেদন করা যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গেই মিলবে রশিদ। আবেদনের জন্য সরকারি তরফে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। মমতা বলেন, ‘‘যে হেতু সময় কম, তাই অনলাইনে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে না। কে পাঠাবে না পাঠাবে, রিভিউ করতে সময় লাগবে। ফলে বঞ্চিত হয়ে পড়তে পারেন। আমরা তা চাই না। কষ্ট করে এসে দরখাস্ত করে যাবেন।” যুবসাথীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য যুব এবং ক্রীড়া বিভাগ থাকবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এর পাশাপাশি রাজ্যের ভূমিহীন কৃষক ও ক্ষেত মজুরদের জন্যও আর্থিক সাহায্যে প্রকল্পের কথা জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন,” ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে দু’বার ২০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তাদের জন্য কৃষি বিভাগ থাকবে। সেই সঙ্গে মাইনর ইরিগেশন এবং পাওয়ার বিভাগ থাকবে।” সেই প্রকল্পও চালু হবে ১ এপ্রিল থেকে।





