তারাতলা বিপর্যয়ে কেটে গিয়েছে ২৪ ঘন্টা। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১১। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। এরই মধ্যে মৃতদের পরিবার প্রতি রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় তারা তলায় ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে গোটা দুর্ঘটনার বিবরণ দেন তিনি। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া আহতদের ১ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও তারাতলায় দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা দায়ী তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার সকালেও দুর্ঘটনাস্থলে (Taratala Godown Collapse) ছড়িয়ে রয়েছে লোহার বিম, সিমেন্টের চাঙড়। চারিদিক যেন ধ্বংসস্তূপ! বুধবার রাতভর উদ্ধারকার্যের পর বৃহস্পতিবার সকাল গড়িয়ে বিকেলেও চলছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাণের সন্ধান। সকালে ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন বেলা ১১ টায় বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমের মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। আহতদের উদ্দেশে বলেন, “সরকার আপনার পাশে আছে।” এরপরই বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্ঘটনার তিরিশ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশ, দমকল ও স্থানীয়রা প্রথমে কাজে হাত লাগান। এরপর এনডিআরএফ, আর্মি যায়। বুধবার রাতভর কাজ চলেছে। এখনও কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম যান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এরপর পৌঁছন দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। আমি প্রথম থেকেই মনিটরিং করছিলাম। তবে গেলে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর বিকেলে যাই। হাসপাতালেও গিয়েছি। আহতদের সঙ্গে কথা হয়েছে।” এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়। গোয়েন্দা দপ্তরের হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্ত। গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ। তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য, ও তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল। তারাতলা কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এনিয়ে রাজনীতি করবেন না। কিন্তু যারা জড়িত তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।এমনকী কলকাতা পুরসভার মেয়র ও আধিকারীকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্ল্যানের অনুমোদনে আমিনুর শেখ (সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার), নির্মলেন্দু সরকার (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার), রঞ্জন দাসের (কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার) সই রয়েছে। রয়েছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই। কাউকে ছাড়া হবে না।”কলকাতা পুরসভায় বিভিন্ন বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদনে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলেও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। কালী নামের এক ব্যক্তির সমস্ত প্ল্যান অনুমোদনের পিছনে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কলকাতা পুরসভায় কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। কালীই বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে। এফআইআর হয়েছে, ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
তারাতলা কাণ্ডের পর উদ্ধারকার্যে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসা সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স-সহ সকল উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।





