Header AD
Trending

আনন্দপুরের অগ্নিদগ্ধ গোডাউনে মৃত ৭, নিখোঁজ এখনও ২০ জন, চলছে তল্লাশি

আনন্দপুরের গোড ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিখোঁজ এখনও বেশ কয়েকজন। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। জানা গিয়েছে অন্তত ২০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় গ্যাসকাটার নিয়ে ভিতরে ঢুকেছেন দমকলকর্মীরা। তবে আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই খবর।

আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ব্র্যান্ডেড মোমোর ওই গোডাউনে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। ছিল ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। দমকল জানায়, পর পর দু’টি গুদামে আগুন ছড়িয়েছে। ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে প্রায় সর্বস্ব। মাঝরাতে আগুন লাগে এবং রাত ৩টে নাগাদ দমকলের কাছে আগুনের খবর যায়। তবে গলির ভিতরে গুদামটি থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় সোমবার বেলার দিকে পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও এখনও কোথাও কোথাও পকেট ফায়ার রয়েছে। তা নেভানোর চেষ্টা চলছে।

এদিন দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। উদ্ধারকাজ পরিদর্শন করেন তিনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্বিগ্ন পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ ও দমকল যৌথ ভাবে কাজ করছে। আগুন বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে। দমকলকর্মীরা ভিতরে গিয়েছেন। আদৌ আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা পরে জানা যাবে।যদিও রাতে গোডাউনে আগুন কী ভাবে লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীরা ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, গোডাউনে নাকি বাইরে থেকে তালা বন্ধ ছিল। আর সেই কারণেই কর্মরত নিরাপত্তা কর্মীরা ভিতরে আটকে পড়েন। অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।’’ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এবং সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৭ টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গুদামের বাইরে ভিড় করেছেন পরিজনেরা।আটকে পড়া কর্মীদের পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছেন, রাত ১টা থেকে গুদাম জ্বলছে। ভিতর থেকে কর্মীরা ফোন করেছিলেন। বাঁচার জন্য দেওয়াল ভাঙার চেষ্টাও করেছিলেন তাঁরা। তার পরে আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।